Now you have implemented jQuery library into your blog. Now lets see how to add scrolling recent posts widget to blogger. If you've already inserted jQuery code then don't put it again. Now Add A new HTML/JavaScript widget Then paste the code given below:
Showing posts with label লাইফস্টাইল. Show all posts
Showing posts with label লাইফস্টাইল. Show all posts

Wednesday, February 19, 2020

বাহিরের ভেজাল গুড়ো দুধ আর নয়, এবার বাড়িতেই তৈরি করুন গুঁড়ো দুধ


গুঁড়ো দুধের ব্যাবহার প্রতিটি পরিবারে কম বেশি প্রতিদিনই হয়। সেমাই, মিষ্টি, কিংবা দুধের তৈরি যে কোন খাবার তৈরিতে আমরা গৃহিণীরা এই গুঁড়ো দুধ ব্যাবহার করি। বাজার থেকে কেনা এই গুঁড়ো দুধ কতোটা স্বাস্থ্যসম্মত তা আমরা জানি না। তাই এই গুঁড়ো দুধ যদি আপনার ঘরেই তৈরি করা যায় তবে কেমন হয়।
হুম, ঠিকই শুনেছেন স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে গুঁড়ো দুধ আপনি এখন ঘরেই তৈরি করতে পারবেন। প্রয়োজনীয় উপকরণ ও প্রস্তুত প্রণালী নিতে দিয়ে দিলাম।
উপকরণ: তরল দুধ ১ লিটার, চিনি আধা কাপ।
প্রস্তুত প্রণালী: চুলায় প্যান বসিয়ে দুধ জ্বাল দিতে থাকুন। ফুটে উঠলে চুলার আঁচ একদম কমিয়ে দুধ জ্বাল করুন। উপরে সর পড়লে একটি চামচ দিতে মাঝে মাঝে তা চারদিক থেকে মাঝখানে এনে দিন। এভাবে সবটুকু দুধকে মালাই বানিয়ে বাটিতে ঢেলে রাখুন।
এবার ছড়ানো একটি প্লেটে মালাই ছড়িয়ে শুকিয়ে নিন। শুকিয়ে গেলে প্লেট থেকে আলগা করে হাত দিয়ে ভালোভাবে ভেঙে নিন। ব্লেন্ডারে শুকিয়ে নেয়া মালাই, চিনি দিয়ে ব্লেন্ড করে নিন। ব্যস, তৈরি হয়ে গেল স্বাস্থ্যসম্মত গুঁড়ো দুধ। এটি কাঁচের বয়ামে করে নরমাল ফ্রিজে রেখে এক মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে পারবেন।

Wednesday, August 14, 2019

কেন হয় বিষণ্ণতা? রইল এর থেকে মুক্তির কিছু সহজ উপায়


বর্তমান যুগে "ডিপ্রেশন" নামক শব্দটার সাথে ছোটো থেকে বড় সবাই কম বেশি পরিচিত। আমাদের চলতি কথাবার্তার মধ্যে মাঝেমাঝেই এই শব্দটা আমরা ব্যবহার করে থাকি। বাংলায় আমরা একে "বিষণ্ণতা" বলে থাকি। সারা বিশ্বেই ডিপ্রেশন এক মারাত্মক ব্যাধি বলে স্বীকৃত। এই বিষণ্ণতা মানুষকে আস্তে আস্তে অক্ষমতার দিকে ঠেলে নিয়ে যায়। ছোটো, বড় প্রত্যেকেই কম বেশি স্ট্রেস, বিষণ্ণতায় ভোগে কোনও না কোনও সময়। ডিপ্রেশন এমন একটি মেন্টাল ডিসঅর্ডার, যার কারণে কোনও মানুষের জীবন ক্ষতবিক্ষত হয়ে যেতে পারে।


বর্তমান সময়ে #ডিপ্রেশন বা বিষণ্ণতা বেশিরভাগই দেখা যায় ছাত্র-ছাত্রী বা টিনএজারদের মধ্যে। বিশেষ করে, বয়ঃসন্ধিকালে যে শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন আসে সেই সময় স্ট্রেস দেখা দেয়। ছেলেমেয়েদের ওপর এইসময় সবথেকে বেশি বিষণ্ণতা ভর করে এবং তারা আবেগবশত কিছু ভুল করে ফেলে। কেউ কেউ আত্মহত্যার পথও বেছে নেয়। আবার, কেউ কেউ ধূমপান, মদ্যপান ও নানারকম খারাপ কাজের সাথে জড়িয়ে পড়ে। যা মারাত্মক আকার ধারণ করে এবং অনেক সময় ছেলে-মেয়েদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দেয়। মাঝেমাঝেই খবরের শিরোনামে উঠে আসে এই ধরনের খবর।


ডিপ্রেশন কী?

বিষণ্ণতা বা ডিপ্রেশন, স্ট্রেস এমনই মারাত্মক ব্যাধি যা মানুষের অনুভূতি, চিন্তা ও কাজ-কর্মের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অনেকসময়, আমরা আমাদের মনখারাপ বা দুঃখবোধ ও বিষণ্ণতাকে এক বলে মনে করি। কিন্তু, এই দুটো এক নয়। দুঃখবোধ হল সাময়িক মনখারাপ যা কিছু সময়ের মধ্যেই ঠিক হয়ে যায়। আর এর জন্য কোনও চিকিৎসার দরকার হয় না। কিন্তু, ডিপ্রেশন হল দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা। যা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।

টিনএজার ছেলে--মেয়েদের বিষণ্ণতার কারণ :

ক) অনেকসময় পড়াশুনায় ব্যর্থ হলে বা কোনও কাজে সফল না হতে পারলে এই বয়সের ছেলে মেয়েরা বিষণ্ণতায় ভোগে।

খ) বন্ধুদের সঙ্গে মনোমালিন্যের কারণেও বিষণ্ণতা দেখা দেয়।

গ) কলেজ মানেই সদ্য স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে এক নতুন রঙিন জগৎ। নতুন বন্ধু-বান্ধব, পাশাপাশি প্রেমের আনাগোনা। সেই প্রেমে ধাক্কা খেয়ে বিষণ্ণতায় ভোগে এই বয়সী ছেলে-মেয়েরা।

ঘ) বড়রা বকা-ঝকা করলে অপমানহীনতায় ভোগে।

ডিপ্রেশনের লক্ষণ :

ক) এক্ষেত্রে ব্যক্তির মন-মেজাজের পরিবর্তন হয়। সবকিছুতেই নেতিবাচক মনোভাব দেখা যায়।

খ) তারা সাধারণত স্বাভাবিক কাজ করতে অক্ষম হয়ে পড়ে, শক্তিহীন, অলস ও নিস্তেজ বোধ করে।

গ) ঘুম হয় না। শরীরে ক্লান্তি অনুভব হয়।

ঘ) রোজকার খাদ্যাভাসে অনীহা দেখা দেয়। নিজের প্রতি খেয়াল রাখার ইচ্ছা থাকে না।

ঙ) যেকোনও কাজে মনোযোগের অভাব দেখা দেয়।

চ) অল্প কিছুতেই কেঁদে ফেলার ইচ্ছা হয়। কোনও কোনও ক্ষেত্রে বাঁচার ইচ্ছে চলে যায়।

ছ) অবসাদের সবথেকে বড়ো উপসর্গ হল, যেটা করতে সবচেয়ে বেশি ভালোলাগে সেটা না করার ইচ্ছা।

বিষণ্ণতা দূর করার উপায় :

শুধুমাত্র টিনএজারই নয়, মধ্যবয়স্ক থেকে বয়স্ক প্রত্যেকেই কখনও না কখনও ডিপ্রেশনে ভুগে থাকেন। বিষণ্ণতা যেমন মানুষের ক্ষতি করে, তেমনই এর থেকে মুক্তির উপায়ও আছে। এই উপায়গুলি মেনে চললে ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

ক) মিউজিক মানুষের মেজাজকে নিমেষের মধ্যে বদলাতে পারে| এটা ওষুধের মতো কাজ করে ডিপ্রেশনের সময়। মিউজিক শুনলে আমাদের মন শান্ত হয়ে যায়। মস্তিষ্ক আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

খ) পর্যাপ্ত সময় ঘুমানো উচিত। সঠিক সময় খাবার খাওয়া উচিত।

গ) বাইরে ঘুরতে যাওয়া ও নিজের জন্য শপিং করতে পারেন।

ঘ) রোজ ডায়রি লেখার অভ্যাস করুন।

ঙ) হাসির সিনেমা বা কমিকস্ পড়লে মন ভালো থাকে।

চ) শিশুদের সঙ্গে সময় কাটান।

ছ) নেতিবাচক চিন্তা থেকে দূরে থাকুন।

স্তন ক্যান্সার সনাক্ত করণে শতভাগ নিশ্চয়তা দিচ্ছে AI প্রযুক্তি

স্তন ক্যান্সার সনাক্ত করণে শতভাগ নিশ্চয়তা দিচ্ছে AI প্রযুক্তি


ক্যান্সার বা কর্কটরোগ খুব সাংঘাতিক একটি রোগ। এখনও পর্যন্ত এই রোগে মৃত্যুর হার অনেক বেশি। প্রাথমিক অবস্থায় ক্যান্সার সহজে ধরা পড়ে না। ফলে শেষ পর্যায়ে গিয়ে ভালো চিকিৎসা করালেও তা সারানো সম্ভব হয় না, বরং কোনও কোনও সময় তা মারাত্মক আকার ধারণ করে। 


বাস্তবিক অর্থে, এখনও পর্যন্ত ক্যান্সার চিকিৎসায় পুরোপুরি কার্যকর কোনও ওষুধ আবিষ্কৃত হয়নি। ক্যান্সার সারানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়। তবে প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পরলে এই রোগ সারানোর সম্ভাবনা অনেকাংশে বেড়ে যায়। বর্তমানে ক্যান্সার নিয়ে প্রচুর গবেষণা হচ্ছে এবং এ সম্পর্কে নতুন নতুন অনেক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। ক্যান্সার কী ? বিশ্বের সমস্ত প্রাণীর শরীর অসংখ্য ছোটো ছোটো কোষের মাধ্যমে তৈরি। এই কোষগুলো একটা নির্দিষ্ট সময় মারা যায়। এই পুরনো কোষগুলোর জায়গায় নতুন কোষ জন্মায়। সাধারণত, কোষগুলো নিয়ন্ত্রিতভাবে এবং নিয়মমতো বিভাজিত হয়ে নতুন কোষের জন্ম দেয়। যখন এই কোষগুলো কোনও কারণে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়তে থাকে তখনই ত্বকের নিচে মাংসের দলা অথবা চাকা দেখা যায়। একেই টিউমার বলে। এই টিউমার বিনাইন বা ম্যালিগন্যান্ট হতে পারে। এই ম্যালিগন্যান্ট টিউমারকেই ক্যান্সার বলে। ক্যান্সার অনেক ধরনের হয়। স্তন ক্যান্সার তার মধ্যে একটি। 




স্তন ক্যান্সার বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মেয়েদের হয়। স্তন ক্যান্সারে নারীদের মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। নিয়মিত ব্যায়াম, শরীরের ওজন নিয়ণ্ত্রণ ও সন্তান হওয়ার পর অন্তত ছয় মাস বাচ্চাকে স্তন্যপান করালে কিছুটা হলেও স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ করা যায়। এই রোগে নারীদের সচেতন করার পাশাপাশি এখন পুরুষদেরকেও সচেতন করা হচ্ছে।

যদিও পুরুষদের স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার হার খুবই কম। দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যে প্রতিবছর ৪০ হাজার মহিলা স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন, সেই তুলনায় মাত্র ৩০০ জন পুরুষ এই রোগে আক্রান্ত হন।

 স্তন ক্যান্সারের উপসর্গ -
ক) স্তনের কোনও অংশ চাকা চাকা হয়ে যাওয়া অথবা স্তনের মধ্যে লাম্প দেখা যায়।
খ)স্তনের আকৃতিতে পরিবর্তন হয়।
গ) স্তনবৃন্তের আকারে পরিবর্তন হয়।
ঘ) স্তনবৃন্ত থেকে রক্ত বা তরল পদার্থ নিঃসৃত হয়।
ঙ) স্তনবৃন্তের আশেপাশে ফুসকুড়ি বেরোনো।
চ) স্তনের ভেতরের অংশ শক্ত বোধ হয়।
ছ) স্তনের চামড়ার রং পরিবর্তন হওয়া বা চামড়া মোটা হয়ে যায়।


 চিকিৎসা পদ্ধতি - প্রাথমিক পর্যায়ে এই রোগ ধরা পড়লে শতকরা ৯০-৯৫ ভাগ রোগী সুস্থ হতে পারেন। এই ক্যান্সারের চিকিৎসা সাধারণত- সার্জারি, কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি, হরমোন থেরাপি এগুলির মাধ্যমে হয়ে থাকে।
 সার্জারি : স্তন ক্যান্সারের যেকোনো পর্যায়েই রোগীর সার্জারি করার প্রয়োজন হতে পারে। অনেক সময় শুধু টিউমার কেটে ফেলা হলেও কিছু ক্ষেত্রে পুরো স্তনই বাদ দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

কেমোথেরাপি : বেশিরভাগ ক্যান্সার রোগীকেই কেমোথেরাপি নিতে হয়। যদিও, কেমোথেরাপিতে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে, তবুও রোগীকে সুস্থ করে তোলার জন্য কেমোথেরাপির বিকল্প নেই। রোগীর শারীরিক অবস্থা, কেমোথেরাপির কার্যকারিতা, রোগীর আর্থিক অবস্থা ইত্যাদি বিবেচনা করেই ক্যান্সার বিশেষজ্ঞরা উপযুক্ত পরামর্শ দেন।

রেডিওথেরাপি : বিশেষ ধরনের মেশিনের মাধ্যমে রোগীদের রেডিওথেরাপি চিকিৎসা দেওয়া হয়। এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তুলনামূলকভাবে কম। সাধারণ কেমোথেরাপির পরই রেডিওথেরাপি দেওয়া হয়।

হরমোন থেরাপি : সব স্তন ক্যান্সারের রোগীর জন্য হরমোন থেরাপির দরকার নেই। ক্যান্সার বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমেই শনাক্ত করেন হরমোন চিকিৎসা কোন রোগীর দরকার। ক্যান্সার বিশেষজ্ঞদের চেয়েও নিখুঁতভাবে ক্যান্সার শনাক্ত করতে সক্ষম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এ.আই (Artificial Intelligence) নামক অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। চিকিৎসা ক্ষেত্রে এ.আই-এর ব্যবহার ক্যান্সার রোগে মৃত্যুর সংখ্যা বছরে ২২ হাজার কমাতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।


 সম্প্রতি লন্ডনের একদল গবেষক জানিয়েছে, অত্যাধুনিক এ.আই প্রযুক্তির দ্বারা স্তন ক্যান্সারের বিভিন্ন দিকগুলি শনাক্ত করা গেছে। এর ফলে, পাঁচ ধরনের স্তন ক্যান্সারকে আলাদাভাবে চিন্হিত করা সম্ভব হয়েছে, যেগুলিকে এতদিন একই ধরনের অন্তর্গত বলে গণ্য করা হত। এই প্রতিটা ধরন কীভাবে ভিন্ন ভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতিতে সাড়া দিতে পারে , সে বিষয়েও এই গবেষণার ফলাফল আলোকপাত করেছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অস্ত্রোপচারের সংখ্যা ৩০ শতাংশেরও বেশি কমিয়ে দিয়েছে। শুধু যুক্তরাজ্যেই প্রতি বছর ৪০ হাজার নারী স্তন ক্যান্সারে মারা যান। কিন্তু, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে স্তন ক্যান্সার শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এর ফলে, রোগীদের দ্রুত সুস্থ করে তোলা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

source:

Sunday, August 11, 2019

নিমেই রয়েছে বেশ কয়েকটি রোগের সমাধান, ম্যাজিকের মতো সারবে অসুখ

নিমেই রয়েছে বেশ কয়েকটি রোগের সমাধান, ম্যাজিকের মতো সারবে অসুখ

নিমপাতার গুণাগুণ সম্পর্কের নানা লোকের নানা মত। কিন্তু বাড়ির পাশেই যদি নিমগাছ থাকে তাহলে আপনি খুবই সৌভাগ্যবান। কারণ বেশ কয়েকটি উপকারে লাগতে পারে নিমপাতা। সেগুলি কী জেনে নিন— 


• কেটে বা ছড়ে গেলে বা পোকার কামড় খেলে ক্ষতস্থানে নিমপাতা বাটা লাগিয়ে নিন। ইনফেকশন হবে না। ক্ষত তাড়াতাড়ি শুকোবে।

• খুশকির সমস্যা থাকলে নিমপাতা জলে সেদ্ধ করুন। জলের রং সবুজ হলে নামিয়ে ঠান্ডা করুন। শ্যাম্পু করার পরে ওই জল দিয়ে চুল ধুয়ে নিন।

• চোখ জ্বালা করলে বা চোখ লাল হয়ে গেলে নিমপাতা জলে সেদ্ধ করুন। জল ঠান্ডা হলে, তাই দিয়ে চোখ ধুলে উপকার পাবেন।

• ব্রণ বা মুখে কালো ছোপ থাকলে নিমপাতা বাটা লাগিয়ে নিন।

• মধুর মধ্যে নিম পাতার রস মেশান। কানের ভিতর ইনফেকশন হলে বা কানের ভিতরে চুলকানি হলে এই মিশ্রণের দু-চার ফোঁটা কানের ভিতরে লাগান।

• ত্বকে বিভিন্ন ধরনের রোগ হয়। কাঁচা হলুদ বাটার সঙ্গে নিমপাতা বাটা মিশিয়ে ব্যবহার করুন।

• নিমপাতা কুচি করে এক গ্লাস জলের সঙ্গে মিশিয়ে খান। এতে শরীরে রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা বাড়বে।

• দাঁতে সমস্যা হলে বা মুখে দুর্গন্ধ হলে নিম ডাল দিয়ে দাঁত মাজুন।

• ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও নিমপাতা খুব উপকারী। নিয়ম করে নিমপাতা খান।

• পেটের সমস্যা হলেও নিমপাতা খেলে উপকার পাবেন। 

Friday, August 9, 2019

৫টি ঔষধি গাছ বাড়িতে চাষ করুন!

৫টি ঔষধি গাছ বাড়িতে চাষ করুন!

অনেক অনেক কাল আগে থেকেই নিজেদের ছোটখাটো পরিসরে নানারকম ঔষধি গাছের চাষ করতেন চিকিৎসকেরা। আবিষ্কার করতেন চিরচেনা সব গাছের নানান চমত্কার ক্ষমতা। বর্তমানে ঔষধি গাছ নিয়ে কাজ করার সেই ঘরোয়া পরিবেশটা আর নেই। তবু কে না চায় এই ব্যস্ততম আর জঞ্জালে ভরা শহরে নিজের বাড়িতেই কিছু ঔষধি গাছের চাষ করতে, নিজেকে আর নিজের পরিবারকে সুস্থ রাখতে? যদি আপনিও তাই চান তাহলে আপনার জন্যেই দেওয়া হল ঘরেই চাষযোগ্য কিছু চমৎকার ও কার্যকরী ঔষধি গাছের বর্ণনা।



পুদিনা

পুদিনাকে চেনেনা এমন খুব কম মানুষই আছে আমাদের দেশে। নিত্যনৈমিত্তিক নানা খাবার তৈরি করতে পুদিনাকে ব্যবহার করি আমরা সবাই। তবে বাড়িতে এই পুদিনা পাতা চাষ করলে কেবল খাবারকে আকর্ষণীয় করতেই নয়, নানারকম কাটা-ছেঁড়ার ক্ষেত্রে এবং হারিয়ে যাওয়া খিদেকে ফিরিয়ে আনতেও সাহায্য করবে এটি।



ঘৃতকুমারী
গোটা বিশ্ব জুড়ে এই গাছের জুস বা রস ক্যাপসুল বা জেলের আকারে বিক্রি হচ্ছে। এই জেলের ভেতরে আছে বিশটি অ্যামিনো অ্যাসিড যা থেকে বিজ্ঞানীরা বলেন প্রাণের সৃষ্টি। এই ২০ অ্যামিনো অ্যাসিডের আটটি দেহের মাঝে তৈরি হয় না। এটা বাইরে থেকে খাদ্যের আকারে গ্রহণ করতে হয়। এটা আসে ঘৃতকুমারী থেকে। এই জেলের রয়েছে ত্বকের যাবতীয় সমস্যা দূর করার ক্ষমতা। অ্যালোভেরা জেল দেহের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে পরিশোধিত করে, ক্ষত সারাতে সাহায্য করে। অ্যালোভেরার আশ্চর্য ঔষধি গুণ রক্তে কোলেস্টেরল ও চিনির মাত্রা স্বাভাবিক অবস্থায় আনতে সাহায্য করেছে; রক্তচাপও কমিয়ে আনছে। ”অ্যালোভেরা জেলী” ব্যবহারকারীদের তাদের যে কোনো চর্মরোগ, মেছতা, ব্রণ দূর করতে দেখা গেছে।



টমেটো


টমেটোর মধ্যে রয়েছে উচ্চ পরিমাণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যেমন- লাইকোপেন। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট দেহের ফ্রি রেডিকেলস দূর করে এবং ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি কমায়। ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত হলে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। টমেটোর কারণে ডিএনএ সহজে ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। টমেটোর মধ্যে রয়েছে উচ্চ পরিমাণ ভিটামিন সি। যেটা শরীরের রোগ নিরাময়ে সাহায্য করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। অসুস্থ শরীর থেকে আরোগ্য পেতে টমেটো খেতে পারেন, এটা রোগ নিরাময়ে সাহায্য করে।



ডালিম
ডালিম গাছের শেকড়, ছাল, ফলের খোসা আমাশয় ও উদরাময়ের ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর ফুল ঋতুস্রাবজনিত সমস্যার ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ঠান্ডাজনিত রোগ, শ্বাসকষ্ট, কাশি এবং বাতের ব্যথা দূর করতে ডালিমের জুড়ি নেই। ডালিম অরুচি দূর করে ও খিদে বাড়ায়। এর রস বমি বন্ধ করে এবং অনবরত বমির ফলে শরীরে যে ক্লান্তি আসে তা দূর করে। এতে উপস্থিত ভিটামিন সি ও বি দাঁত এবং মুখের রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে। এর আয়রন, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম ও ফোলেট দেহে রক্ত তৈরিতে সহায়তা করে। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে। এছাড়া ডালিম বার্ধক্য বিলম্বিত করতেও সহায়তা করে এবং রক্তের তারল্য ঠিক রাখে এবং হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়। ডালিমের রস খুবই ভালো ত্বক পরিষ্কারক। ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতেও ডালিমের রস কার্যকর।



পালং


পালং শাকে প্রচুর ভিটামিন ‘সি’ এবং বিটা কেরোটিন থাকায় তা কোলনের কোষগুলোকে রক্ষা করে। বাতের ব্যথা, অস্টিওপোরোসিস, মাইগ্রেশন, মাথাব্যথা দূর করতে প্রদাহনাশক হিসেবে পালং শাক কাজ করে। এই শাক স্মৃতিশক্তি এবং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিতে খুবই কার্যকর। এতে প্রচুর পরিমাণ আয়রন ও ভিটামিন ‘সি’ থাকায় রক্তস্বল্পতা দূর করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে এবং পেট পরিষ্কার রাখতে অপরিহার্য। তাছাড়া রক্ত তৈরিতে সাহায্য করে, দৃষ্টিশক্তিও বাড়ায়। পালং শাকে ১৩ প্রকার ফ্লাভোনয়েডস আছে যা ক্যান্সার প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা রাখে। ডায়াবেটিক রোগীদের জন্যও পালং শাক খুব উপকারী। তবে যাদের ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা আছে তাদের পালং শাক খাওয়ার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিৎ।

Thursday, August 8, 2019

জেনে নিন কাঁচা ছোলার স্বাস্থ্যগুণের কিছু কথা!

পার্ক অথবা অন্য কোনো জায়গায় বেড়াতে গেলে চানাচুরওয়ালার কাছ থেকে আমরা কাঁচা ছোলা কিনে খাই। এটি যেমন সুস্বাদু, তেমনই পেটও ভরে যায়। কিন্তু কাঁচা ছোলার পুষ্টিগুণ সম্পর্কে আমরা অনেকেই খুব ভালোভাবে অবগত নই। উচ্চমাত্রার প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার ছোলা। কাঁচা, সেদ্ধ বা তরকারি রান্না করেও খাওয়া যায়। কাঁচা ছোলায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন-এ, ভিটামিন- বি১, এবং বি২, খনিজ লবণ, ম্যাগনেশিয়াম ও ফসফরাস। আরও আছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি, যা দীর্ঘক্ষণ ধরে শরীরে শক্তির জোগান দিতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। তবে ছোলার ফ্যাট বেশিরভাগই আনস্যাচুরেটেড। এ ফ্যাট শরীরের জন্য মোটেও ক্ষতিকারক নয়। বরং রক্তের চর্বি কমিয়ে ফেলতে ভূমিকা রাখে। ছোলা খাওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই হজম হয়। ছোলার আঁশ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সহায়তা করে। ছোলায় বেশ ভালো পরিমাণে ফলিক অ্যাসিড থাকায় রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। খাদ্যনালিতে ক্ষতিকর জীবাণু দূর করে ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা কমাতে সাহায্য করে ছোলা। এটির শর্করা গ্লুকোজ হয়ে দ্রুত রক্তে যায় না। তাই ডায়াবেটিস আক্রান্তদের জন্য ছোলা খুবই উপকারী খাবার। কাঁচা ছোলা ভিজিয়ে, খোসা ছাড়িয়ে, কাঁচা আদার সঙ্গে খেলে শরীরে একই সঙ্গে আমিষ ও অ্যান্টিবায়োটিক গঠন হয়। আমিষ মানুষকে শক্তিশালী ও স্বাস্থ্যবান বানায়। আর অ্যান্টিবায়োটিক যেকোনো অসুখের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। প্রতি ১০০ গ্রাম ছোলায় আমিষ প্রায় ১৮ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট প্রায় ৬৫ গ্রাম, ফ্যাট মাত্র ৫ গ্রাম, ২০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ‘এ’ প্রায় ১৯২ মাইক্রোগ্রাম এবং প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি-১ ও বি-২ আছে।     জেনে নিন ছোলার কিছু স্বাস্থ্যগুণের কথা: ছোলা পুষ্টিকর একটি ডাল। এটি মলিবেডনাম এবং ম্যাঙ্গানিজের চমৎকার উৎস। ছোলাতে প্রচুর পরিমাণে ফলেট এবং খাদ্য আঁশ আছে সেই সাথে আছে আমিষ, ট্রিপট্যোফান, কপার, ফসফরাস এবং আয়রণ। এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন ১/২ কাপ ছোলা, শিম এবং মটর খায় তাদের পায়ের আর্টারিতে রক্ত চলাচল বেড়ে যায়। তাছাড়া ছোলায় অবস্থিত আইসোফ্লাভন ইস্কেমিক স্ট্রোকে আক্রান্ত ব্যক্তিদের আর্টারির কার্যক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেয়। আবার তাই ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য ছোলার শর্করা ভাল। কারণ ১০০ গ্রাম ছোলায় আছে ১৭ গ্রাম আমিষ বা প্রোটিন, ৬৪ গ্রাম শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট এবং ৫ গ্রাম ফ্যাট বা তেল। ছোলার শর্করা বা কার্বোহাইডেটের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম। প্রতি ১০০ গ্রাম ছোলায় ক্যালসিয়াম আছে প্রায় ২০০ মিলিগ্রাম, লৌহ ১০ মিলিগ্রাম, ও ভিটামিন এ ১৯০ মাইক্রোগ্রাম। এছাড়া আছে ভিটামিন বি-১, বি-২, ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়াম। এর সবই শরীরের উপকারে আসে। আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখানো হয়, যে সকল অল্পবয়সী নারী বেশি পরিমাণে ফলিক অ্যাসিডযুক্ত খাবার খান, তাদের হাইপারটেনশনের প্রবণতা কমে যায়। যেহেতু ছোলায় বেশ ভাল পরিমাণ ফলিক অ্যাসিড থাকে সেহেতু ছোলা খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। এছাড়া ছোলা বয়সসন্ধি পরবর্তীকালে মেয়েদের হার্ট ভাল রাখতেও সাহায্য করে।    কোরিয়ান গবেষকরা তাদের গবেষণায় প্রমাণ করেছেন, বেশি পরিমাণ ফলিক অ্যাসিড খাবারের সাথে গ্রহণের মাধ্যমে নারীরা কোলন ক্যান্সার এবং রেক্টাল ক্যান্সার এর ঝুঁকি থেকে নিজেদের মুক্ত রাখতে পারেন। এছাড়া ফলিক অ্যাসিড রক্তের অ্যালার্জির পরিমাণ কমিয়ে অ্যাজমার প্রকোপও কমিয়ে দেয়। আর তা্ই নিয়মিত ছোলা খান এবং সুস্থ থাকুন। এছাড়াও এতে ভিটামিন ‘বি’ও আছে পর্যাপ্ত পরিমাণে। ভিটামিন ‘বি’ কমায় মেরুদণ্ডের ব্যথা, স্নায়ুর দুর্বলতা। ছোলা শরীরের অপ্রয়োজনীয় কোলেস্টেরল কমিয়ে দেয়। ছোলার ফ্যাট বা তেলের বেশির ভাগ পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়। প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট ছাড়া ছোলায় আরও আছে বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ লবণ। অস্ট্রেলিয়ান গবেষকরা দেখিয়েছেন, খাবারে ছোলা যুক্ত করলে টোটাল কোলেস্টেরল এবং খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমে যায়। ছোলাতে দ্রবণীয় এবং অদ্রবণীয় উভয় ধরনের খাদ্য আঁশ আছে যা হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। আঁশ, পটাসিয়াম, ভিটামিন ‘সি’ এবং ভিটামিন বি-৬ হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে যায়। এর ডাল আঁশসমৃদ্ধ যা রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন ৪০৬৯ মিলিগ্রাম ছোলা খায় হৃদরোগ থেকে তাদের মৃত্যুর ঝুঁকি ৪৯% কমে যায়।     যৌনশক্তি বৃদ্ধিতে এর ভূমিকা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। শ্বাসনালীতে জমে থাকা পুরনো কাশি বা কফ ভালো হওয়ার জন্য কাজ করে শুকনা ছোলা ভাজা। ছোলা বা বুটের শাকও শরীরের জন্য ভীষণ উপকারী। প্রচুর পরিমাণে ডায়াটারি ফাইবার বা আঁশ রয়েছে এই ছোলায় ও ছোলার শাকে। ডায়াটারি ফাইবার খাবারে অবস্থিত পাতলা আঁশ, যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। যাদের রক্তে চর্বি বেড়ে গেছে তারা নিয়মিত ছোলা খাওয়ার অভ্যাস করুন, দেখবেন উপকার পাবেন। ছোলার ফ্যাটের বেশিরভাগই পলি আনস্যাচুয়েটেড। এই ফ্যাট শরীরের জন্য মোটেই ক্ষতিকর নয়, বরং রক্তের চর্বি কমায়। ছোলায় শর্করার গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের পরিমাণ কম থাকায় শরীরে প্রবেশ করার পর অস্থির ভাব দূর হয়। সুতরাং হঠাৎ যদি দেহের মধ্যে অস্থির অনুভব হয়, তাহলে ছোলা খেয়ে নিতে পারেন। দেখবেন উপকার পাবেন। সালফার নামক খাদ্য উপাদান থাকে এই ছোলাতে। সালফার মাথা গরম হয়ে যাওয়া, হাত-পায়ের তলায় জ্বালাপোড়া কমাতে অনেক সাহায্য করে থাকে। তাই জাদের হাতে পায়ে জ্বালা পোড়া অনুভব হয় তারা নিয়মিত ছোলা খান।     ছোলা কৃমিনাশক হিসেবেও কাজ করে। সারা রাত ছোলা ভিজিয়ে রেখে সকালে খালি পেটে খেলে কৃমি মারা যায়। সুতরাং কৃমির জন্য আর চিন্তা করতে হবে না। কাচা ছোলা সকালে খেলে কৃমি মারা যাবে। কাঁচা ছোলায় রয়েছে জ্বর ভালো করার ক্ষমতা। সুতরাং কেউ যদি জ্বর এ ভোগেন তাহলে কাঁচা ছোলা খেতে পারেন। রূপচর্চায়ও ছোলা ব্যবহার করেন অনেকে। সাবানের মতো ছোলা শরীরের চামড়া পরিষ্কার করে। ছোলা বা মটর দানার বেসন পানিতে ভিজিয়ে গোসলের আগে শরীরে মাখলে শরীর থেকে ময়লা পরিস্কার হয়ে যায়। ছোলা ত্বকের লাবণ্য ফিরিরে আনে। ছোলার খোসা সেদ্ধ করে সেই সেদ্ধ পানি বার বার খেলে পিত্ত রোগ ভালো হয়। মুখে ব্রণ বা মেছতা হরে ছোলা ভিজিয়ে বেটে মুখে লাগান। এতে ব্রণ দূর হয় এবং মেছতার দাগ মুছে যায়। এছাড়া ছোলা বাঁটা মুখে ব্যবহার করলে ত্বকের সৌন্দর্য ও টান টান ভাব ফিরে আসে। বদহজমের কারণে অনেকের গায়ের রঙ কালো হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে পরিষ্কার পানিতে ছোলা সেদ্ধ করে সেই পানি খেলে বদহজম থাকবে না এবং গায়ের কালচে ভাবটিও কেটে যাবে।

পার্ক অথবা অন্য কোনো জায়গায় বেড়াতে গেলে চানাচুরওয়ালার কাছ থেকে আমরা কাঁচা ছোলা কিনে খাই। এটি যেমন সুস্বাদু, তেমনই পেটও ভরে যায়। কিন্তু কাঁচা ছোলার পুষ্টিগুণ সম্পর্কে আমরা অনেকেই খুব ভালোভাবে অবগত নই। উচ্চমাত্রার প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার ছোলা। কাঁচা, সেদ্ধ বা তরকারি রান্না করেও খাওয়া যায়। কাঁচা ছোলায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন-এ, ভিটামিন- বি১, এবং বি২, খনিজ লবণ, ম্যাগনেশিয়াম ও ফসফরাস। আরও আছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি, যা দীর্ঘক্ষণ ধরে শরীরে শক্তির জোগান দিতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। তবে ছোলার ফ্যাট বেশিরভাগই আনস্যাচুরেটেড। এ ফ্যাট শরীরের জন্য মোটেও ক্ষতিকারক নয়। বরং রক্তের চর্বি কমিয়ে ফেলতে ভূমিকা রাখে। ছোলা খাওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই হজম হয়। ছোলার আঁশ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সহায়তা করে। ছোলায় বেশ ভালো পরিমাণে ফলিক অ্যাসিড থাকায় রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। খাদ্যনালিতে ক্ষতিকর জীবাণু দূর করে ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা কমাতে সাহায্য করে ছোলা। এটির শর্করা গ্লুকোজ হয়ে দ্রুত রক্তে যায় না। তাই ডায়াবেটিস আক্রান্তদের জন্য ছোলা খুবই উপকারী খাবার। কাঁচা ছোলা ভিজিয়ে, খোসা ছাড়িয়ে, কাঁচা আদার সঙ্গে খেলে শরীরে একই সঙ্গে আমিষ ও অ্যান্টিবায়োটিক গঠন হয়। আমিষ মানুষকে শক্তিশালী ও স্বাস্থ্যবান বানায়। আর অ্যান্টিবায়োটিক যেকোনো অসুখের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। প্রতি ১০০ গ্রাম ছোলায় আমিষ প্রায় ১৮ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট প্রায় ৬৫ গ্রাম, ফ্যাট মাত্র ৫ গ্রাম, ২০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ‘এ’ প্রায় ১৯২ মাইক্রোগ্রাম এবং প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি-১ ও বি-২ আছে।



জেনে নিন ছোলার কিছু স্বাস্থ্যগুণের কথা:
ছোলা পুষ্টিকর একটি ডাল। এটি মলিবেডনাম এবং ম্যাঙ্গানিজের চমৎকার উৎস। ছোলাতে প্রচুর পরিমাণে ফলেট এবং খাদ্য আঁশ আছে সেই সাথে আছে আমিষ, ট্রিপট্যোফান, কপার, ফসফরাস এবং আয়রণ। এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন ১/২ কাপ ছোলা, শিম এবং মটর খায় তাদের পায়ের আর্টারিতে রক্ত চলাচল বেড়ে যায়। তাছাড়া ছোলায় অবস্থিত আইসোফ্লাভন ইস্কেমিক স্ট্রোকে আক্রান্ত ব্যক্তিদের আর্টারির কার্যক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেয়। আবার তাই ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য ছোলার শর্করা ভাল। কারণ ১০০ গ্রাম ছোলায় আছে ১৭ গ্রাম আমিষ বা প্রোটিন, ৬৪ গ্রাম শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট এবং ৫ গ্রাম ফ্যাট বা তেল। ছোলার শর্করা বা কার্বোহাইডেটের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম। প্রতি ১০০ গ্রাম ছোলায় ক্যালসিয়াম আছে প্রায় ২০০ মিলিগ্রাম, লৌহ ১০ মিলিগ্রাম, ও ভিটামিন এ ১৯০ মাইক্রোগ্রাম। এছাড়া আছে ভিটামিন বি-১, বি-২, ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়াম। এর সবই শরীরের উপকারে আসে। আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখানো হয়, যে সকল অল্পবয়সী নারী বেশি পরিমাণে ফলিক অ্যাসিডযুক্ত খাবার খান, তাদের হাইপারটেনশনের প্রবণতা কমে যায়। যেহেতু ছোলায় বেশ ভাল পরিমাণ ফলিক অ্যাসিড থাকে সেহেতু ছোলা খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। এছাড়া ছোলা বয়সসন্ধি পরবর্তীকালে মেয়েদের হার্ট ভাল রাখতেও সাহায্য করে।



কোরিয়ান গবেষকরা তাদের গবেষণায় প্রমাণ করেছেন, বেশি পরিমাণ ফলিক অ্যাসিড খাবারের সাথে গ্রহণের মাধ্যমে নারীরা কোলন ক্যান্সার এবং রেক্টাল ক্যান্সার এর ঝুঁকি থেকে নিজেদের মুক্ত রাখতে পারেন। এছাড়া ফলিক অ্যাসিড রক্তের অ্যালার্জির পরিমাণ কমিয়ে অ্যাজমার প্রকোপও কমিয়ে দেয়। আর তা্ই নিয়মিত ছোলা খান এবং সুস্থ থাকুন। এছাড়াও এতে ভিটামিন ‘বি’ও আছে পর্যাপ্ত পরিমাণে। ভিটামিন ‘বি’ কমায় মেরুদণ্ডের ব্যথা, স্নায়ুর দুর্বলতা। ছোলা শরীরের অপ্রয়োজনীয় কোলেস্টেরল কমিয়ে দেয়। ছোলার ফ্যাট বা তেলের বেশির ভাগ পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়। প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট ছাড়া ছোলায় আরও আছে বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ লবণ। অস্ট্রেলিয়ান গবেষকরা দেখিয়েছেন, খাবারে ছোলা যুক্ত করলে টোটাল কোলেস্টেরল এবং খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমে যায়। ছোলাতে দ্রবণীয় এবং অদ্রবণীয় উভয় ধরনের খাদ্য আঁশ আছে যা হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। আঁশ, পটাসিয়াম, ভিটামিন ‘সি’ এবং ভিটামিন বি-৬ হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে যায়। এর ডাল আঁশসমৃদ্ধ যা রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন ৪০৬৯ মিলিগ্রাম ছোলা খায় হৃদরোগ থেকে তাদের মৃত্যুর ঝুঁকি ৪৯% কমে যায়।



যৌনশক্তি বৃদ্ধিতে এর ভূমিকা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। শ্বাসনালীতে জমে থাকা পুরনো কাশি বা কফ ভালো হওয়ার জন্য কাজ করে শুকনা ছোলা ভাজা। ছোলা বা বুটের শাকও শরীরের জন্য ভীষণ উপকারী। প্রচুর পরিমাণে ডায়াটারি ফাইবার বা আঁশ রয়েছে এই ছোলায় ও ছোলার শাকে। ডায়াটারি ফাইবার খাবারে অবস্থিত পাতলা আঁশ, যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। যাদের রক্তে চর্বি বেড়ে গেছে তারা নিয়মিত ছোলা খাওয়ার অভ্যাস করুন, দেখবেন উপকার পাবেন। ছোলার ফ্যাটের বেশিরভাগই পলি আনস্যাচুয়েটেড। এই ফ্যাট শরীরের জন্য মোটেই ক্ষতিকর নয়, বরং রক্তের চর্বি কমায়। ছোলায় শর্করার গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের পরিমাণ কম থাকায় শরীরে প্রবেশ করার পর অস্থির ভাব দূর হয়। সুতরাং হঠাৎ যদি দেহের মধ্যে অস্থির অনুভব হয়, তাহলে ছোলা খেয়ে নিতে পারেন। দেখবেন উপকার পাবেন। সালফার নামক খাদ্য উপাদান থাকে এই ছোলাতে। সালফার মাথা গরম হয়ে যাওয়া, হাত-পায়ের তলায় জ্বালাপোড়া কমাতে অনেক সাহায্য করে থাকে। তাই জাদের হাতে পায়ে জ্বালা পোড়া অনুভব হয় তারা নিয়মিত ছোলা খান।



ছোলা কৃমিনাশক হিসেবেও কাজ করে। সারা রাত ছোলা ভিজিয়ে রেখে সকালে খালি পেটে খেলে কৃমি মারা যায়। সুতরাং কৃমির জন্য আর চিন্তা করতে হবে না। কাচা ছোলা সকালে খেলে কৃমি মারা যাবে। কাঁচা ছোলায় রয়েছে জ্বর ভালো করার ক্ষমতা। সুতরাং কেউ যদি জ্বর এ ভোগেন তাহলে কাঁচা ছোলা খেতে পারেন। রূপচর্চায়ও ছোলা ব্যবহার করেন অনেকে। সাবানের মতো ছোলা শরীরের চামড়া পরিষ্কার করে। ছোলা বা মটর দানার বেসন পানিতে ভিজিয়ে গোসলের আগে শরীরে মাখলে শরীর থেকে ময়লা পরিস্কার হয়ে যায়। ছোলা ত্বকের লাবণ্য ফিরিরে আনে। ছোলার খোসা সেদ্ধ করে সেই সেদ্ধ পানি বার বার খেলে পিত্ত রোগ ভালো হয়। মুখে ব্রণ বা মেছতা হরে ছোলা ভিজিয়ে বেটে মুখে লাগান। এতে ব্রণ দূর হয় এবং মেছতার দাগ মুছে যায়। এছাড়া ছোলা বাঁটা মুখে ব্যবহার করলে ত্বকের সৌন্দর্য ও টান টান ভাব ফিরে আসে। বদহজমের কারণে অনেকের গায়ের রঙ কালো হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে পরিষ্কার পানিতে ছোলা সেদ্ধ করে সেই পানি খেলে বদহজম থাকবে না এবং গায়ের কালচে ভাবটিও কেটে যাবে।

লাল চায়ের যত ঔষুধি গুণাগুণ।

আমরা দিনে বেশ কয়েক কাপ চা খেয়ে থাকি। কিন্তু কেন আমাদের মন চা খেতে চায়। কারণ চায়ে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ক্যাফেইন, পটাশিয়াম ও এন্টি অক্সিডেন্ট। এগুলো শরীরকে চাঙ্গা রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও চায়ের বিভিন্ন ঔষধি গুণ তো রয়েছেই। চায়ে পাওয়া যায় ফ্ল্যাভোনয়েড নামক উপাদান। এ ফ্ল্যাভোনয়েডের ভেতর রয়েছে অনেক এন্টি অক্সিডেন্ট, এছাড়াও চায়ে রয়েছে পর্যাপ্ত পটাশিয়াম ও ক্যাফেইন। ক্লান্ত শরীরের অলসতা দূর করে শরীর ও মনকে চাঙ্গা রাখতে এ পটাশিয়াম ও ক্যাফেইনের তুলনা হয় না। অন্যদিকে এন্টি অক্সিডেন্ট আমাদের হৃদরোগের ঝুঁঁকি কমাতে সাহায্য করে।মজার তথ্য হলো, ভারত উপমহাদেশে ব্রিটিশ আমলে জনবহুল জায়গাগুলোতে ব্রিটিশ সরকার চায়ের ঔষধি গুণের নানা বিজ্ঞাপন লিখে আমাদের চা খাওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করত। সে সময় ইংরেজরা ভারতীয়দের চা পান করার জন্য বিনা পয়সায়    চা পান করাত ও চায়ের বিজ্ঞাপন দিত। সে সময়কার চায়ের বিজ্ঞাপনগুলোতে লেখা থাকত চা পান করলে টাইফয়েড, কলেরা, বসন্ত, আমাশয়সহ নানা রোগের প্রতিকার হয়। পরবর্তী সময় গবেষণায় দেখা গেছে, চা পান করলে কলেরা-টাইফয়েড ভালো না হলেও এতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যায় ও দেহের কোষের ক্ষয়রোধ হয়। তবে আমরা যারা নিয়মিত চা খাই তাদের অবশ্যই জানা প্রয়োজন, দুধ চায়ের চেয়ে লাল চা শরীরের জন্য বেশি কার্যকরী। সম্প্রতি ইউরোপিয়ান হার্ট জার্নালে বলা হয়েছে, লাল চা পান করলে মানুষের রক্তনালি ও ধমনির কার্যক্রম তাৎপর্যপূর্ণভাবে বৃদ্ধি পায়; কিন্তু চায়ে দুধ মেশালে চায়ের সুফল অনেক কমে যায়, কারণ রক্ত পরিবহনতন্ত্রের জন্য চায়ের উপকারিতার বিপরীতে কাজ করে। অন্যদিকে দুধের প্রোটিন চায়ের এন্টি অক্সিডেন্টের সঙ্গে মিশে যায় বলে চায়ের বেশিরভাগ ঔষুধি গুণ নষ্ট হয়ে যায়। তাই বলা যায়, দুধ চা পান করার চেয়ে লাল চা পান করাই শরীরের জন্য বেশি ভালো। তাই যারা চা পান করে শরীরে ঔষধি উপকার পেতে চান তারা অবশ্যই দুধবিহীন চা বা লাল চা পান করুন, সেইসঙ্গে চাঙ্গা শরীর ও মন নিয়ে সুস্থ থাকুন।

আমরা দিনে বেশ কয়েক কাপ চা খেয়ে থাকি। কিন্তু কেন আমাদের মন চা খেতে চায়। কারণ চায়ে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ক্যাফেইন, পটাশিয়াম ও এন্টি অক্সিডেন্ট। এগুলো শরীরকে চাঙ্গা রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও চায়ের বিভিন্ন ঔষধি গুণ তো রয়েছেই। চায়ে পাওয়া যায় ফ্ল্যাভোনয়েড নামক উপাদান। এ ফ্ল্যাভোনয়েডের ভেতর রয়েছে অনেক এন্টি অক্সিডেন্ট, এছাড়াও চায়ে রয়েছে পর্যাপ্ত পটাশিয়াম ও ক্যাফেইন। ক্লান্ত শরীরের অলসতা দূর করে শরীর ও মনকে চাঙ্গা রাখতে এ পটাশিয়াম ও ক্যাফেইনের তুলনা হয় না। অন্যদিকে এন্টি অক্সিডেন্ট আমাদের হৃদরোগের ঝুঁঁকি কমাতে সাহায্য করে।মজার তথ্য হলো, ভারত উপমহাদেশে ব্রিটিশ আমলে জনবহুল জায়গাগুলোতে ব্রিটিশ সরকার চায়ের ঔষধি গুণের নানা বিজ্ঞাপন লিখে আমাদের চা খাওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করত। সে সময় ইংরেজরা ভারতীয়দের চা পান করার জন্য বিনা পয়সায়



চা পান করাত ও চায়ের বিজ্ঞাপন দিত। সে সময়কার চায়ের বিজ্ঞাপনগুলোতে লেখা থাকত চা পান করলে টাইফয়েড, কলেরা, বসন্ত, আমাশয়সহ নানা রোগের প্রতিকার হয়। পরবর্তী সময় গবেষণায় দেখা গেছে, চা পান করলে কলেরা-টাইফয়েড ভালো না হলেও এতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যায় ও দেহের কোষের ক্ষয়রোধ হয়। তবে আমরা যারা নিয়মিত চা খাই তাদের অবশ্যই জানা প্রয়োজন, দুধ চায়ের চেয়ে লাল চা শরীরের জন্য বেশি কার্যকরী। সম্প্রতি ইউরোপিয়ান হার্ট জার্নালে বলা হয়েছে, লাল চা পান করলে মানুষের রক্তনালি ও ধমনির কার্যক্রম তাৎপর্যপূর্ণভাবে বৃদ্ধি পায়; কিন্তু চায়ে দুধ মেশালে চায়ের সুফল অনেক কমে যায়, কারণ রক্ত পরিবহনতন্ত্রের জন্য চায়ের উপকারিতার বিপরীতে কাজ করে। অন্যদিকে দুধের প্রোটিন চায়ের এন্টি অক্সিডেন্টের সঙ্গে মিশে যায় বলে চায়ের বেশিরভাগ ঔষুধি গুণ নষ্ট হয়ে যায়। তাই বলা যায়, দুধ চা পান করার চেয়ে লাল চা পান করাই শরীরের জন্য বেশি ভালো। তাই যারা চা পান করে শরীরে ঔষধি উপকার পেতে চান তারা অবশ্যই দুধবিহীন চা বা লাল চা পান করুন, সেইসঙ্গে চাঙ্গা শরীর ও মন নিয়ে সুস্থ থাকুন।

ব্যথার ওষুধ কতটা ক্ষতিকর আপনি জানেন?

ঘাড়, কোমর, হাঁটুসহ শারীরিক ব্যথাক্রান্ত বেশিরভাগ মানুষের ব্যথা কমানোর প্রধান অবলম্বন হয়ত ব্যথানাশক ওষুধ। কিন্তু আমরা কখনও কি ভেবে দেখেছি, ব্যথার ওষুধ কতটা ক্ষতিকর! ব্যথার ওষুধ গ্যাস্ট্রিক আলসার তৈরি করে অথবা কিডনীর ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব আছে এটা প্রায় সবার জানা। কিন্তু অতি সম্প্রতি আমেরিকান কার্ডিয়াক সোসাইটি জানাচ্ছে, সবচেয়ে সহনশীল ব্যথানাশক আইবুপ্রোফেনও হার্টঅ্যাটাকের জন্য দায়ী হতে পারে।     ব্যথার ওষুধের বিকল্প আছে কি : পৃথিবী যত উন্নত হচ্ছে মানুষ তত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন চিকিৎসার দিকে ঝুঁকছে। সামান্য ব্যথা সারাতে কিডনী বা হৃদযন্ত্রকে আঘাত করতে কেউই চাইবেন না। তাই সারা বিশ্বে ব্যথার ওষুধবিহীন ব্যথার চিকিৎসা দিন দিন জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে কারণ নির্ণয় করে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন ব্যথার চিকিৎসা করা যায়। কিছু সাধারণ শারীরিক ও কিছু প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার মাধ্যমেই খুব সহজেই ব্যথার প্রকৃত কারণ নির্নয় করা সম্ভব। আর সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিলে বেশিরভাগ শারীরিক ব্যথার চিকিৎসা ব্যথানাশক ওষুধ ছাড়াই করা সম্ভব। গত কয়েক মাস আগে একজন ব্যথার রোগীর সঙ্গে পরিচিত হলাম যিনি কোমর ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে তিন মাস ব্যথানাশক সেবন করেছেন। তার অভিযোগ ছিল, ওষুধ খেয়ে সাময়িক মুক্তি মিলছে বটে কিন্তু ওষুধ বন্ধ করলে আবার ব্যথা ফিরে আসছে। ইতিহাস নিয়ে জানা গেল উনি দিনে ৯/১০ ঘণ্টা বসে কাজ করেন। তার বসার চেয়ার বদল, কিছু বিজ্ঞানসম্মত ব্যায়াম আর ইলেক্ট্রোথেরাপি তাকে ব্যথামুক্ত জীবন উপহার দিয়েছে।     শেষ কথা : শারীরিক ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়ার মূলমন্ত্র হল ব্যথার কারণ নির্ণয়। ব্যথার প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ্য থাকুন।

ঘাড়, কোমর, হাঁটুসহ শারীরিক ব্যথাক্রান্ত বেশিরভাগ মানুষের ব্যথা কমানোর প্রধান অবলম্বন হয়ত ব্যথানাশক ওষুধ। কিন্তু আমরা কখনও কি ভেবে দেখেছি, ব্যথার ওষুধ কতটা ক্ষতিকর! ব্যথার ওষুধ গ্যাস্ট্রিক আলসার তৈরি করে অথবা কিডনীর ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব আছে এটা প্রায় সবার জানা। কিন্তু অতি সম্প্রতি আমেরিকান কার্ডিয়াক সোসাইটি জানাচ্ছে, সবচেয়ে সহনশীল ব্যথানাশক আইবুপ্রোফেনও হার্টঅ্যাটাকের জন্য দায়ী হতে পারে।



ব্যথার ওষুধের বিকল্প আছে কি : পৃথিবী যত উন্নত হচ্ছে মানুষ তত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন চিকিৎসার দিকে ঝুঁকছে। সামান্য ব্যথা সারাতে কিডনী বা হৃদযন্ত্রকে আঘাত করতে কেউই চাইবেন না। তাই সারা বিশ্বে ব্যথার ওষুধবিহীন ব্যথার চিকিৎসা দিন দিন জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে কারণ নির্ণয় করে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন ব্যথার চিকিৎসা করা যায়। কিছু সাধারণ শারীরিক ও কিছু প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার মাধ্যমেই খুব সহজেই ব্যথার প্রকৃত কারণ নির্নয় করা সম্ভব। আর সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিলে বেশিরভাগ শারীরিক ব্যথার চিকিৎসা ব্যথানাশক ওষুধ ছাড়াই করা সম্ভব। গত কয়েক মাস আগে একজন ব্যথার রোগীর সঙ্গে পরিচিত হলাম যিনি কোমর ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে তিন মাস ব্যথানাশক সেবন করেছেন। তার অভিযোগ ছিল, ওষুধ খেয়ে সাময়িক মুক্তি মিলছে বটে কিন্তু ওষুধ বন্ধ করলে আবার ব্যথা ফিরে আসছে। ইতিহাস নিয়ে জানা গেল উনি দিনে ৯/১০ ঘণ্টা বসে কাজ করেন। তার বসার চেয়ার বদল, কিছু বিজ্ঞানসম্মত ব্যায়াম আর ইলেক্ট্রোথেরাপি তাকে ব্যথামুক্ত জীবন উপহার দিয়েছে।



শেষ কথা : শারীরিক ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়ার মূলমন্ত্র হল ব্যথার কারণ নির্ণয়। ব্যথার প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ্য থাকুন।

স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খেয়ে, সুস্থ ও স্মাট থাকুন।

প্রতি বছর বিশ্বে দেড় কোটি শিশু মারা যায় ক্ষুধার্ত অবস্থায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ মানুষ ক্ষুধার্ত। প্রতি ৩.৬ সেকেন্ডে একজন মারা যায় ক্ষুধার তাড়নায়। পৃথিবীর প্রায় ১০০ কোটি মানুষ অপুষ্টিতে ভোগে। বিশ্বব্যাংকের এক পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, অপুষ্টিতে আক্রান্ত এসব মানুষের ৮০ শতাংশ শিশু ও মহিলা। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে, উন্নয়নশীল ও দরিদ্র দেশগুলোর প্রায় ৫০ কোটি শিশু অপুষ্টিতে আক্রান্ত। প্রতিবছর ৫ বছরের কম বয়স্ক প্রায় ৮৫ লাখ শিশু নামেমাত্র বেঁচে থাকলেও উপবাসের কারণে কোনো না কোনো সময় মৃত্যুবরণের জন্য দিন গোনে।     এবার একটি বিপরীতধর্মী প্রসঙ্গ। ২০১০ সালের ফেব্র“য়ারিতে মার্কিন ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা যুক্তরাষ্ট্রের শিশুদের অতিশয় স্থূলতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। মেয়রদের সম্মেলনে বক্তৃতা প্রদানকালে তিনি বলেন, স্থূলতা মহামারী আকারে দেখা দিয়েছে এবং এই স্থূলতা আমেরিকার স্বাস্থ্য ও অর্থনীতির জন্য এক মহাবিপদ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। শরীরে মাত্রাতিরিক্ত চর্বি জমা হলে মানুষ অস্বাভাবিক মোটা হয়ে যায়। জেনেটিক বা জৈবিক কারণ ছাড়াও মানুষের জীবনপদ্ধতি স্থূলতার জন্য বিশেষভাবে দায়ী। সহজভাষায়, মানুষ খাবারের মাধ্যমে অতি বেশি পরিমাণে ক্যালরি গ্রহণ করার পর যৎসামান্য ক্যালরি খরচ করলে অর্থাৎ পর্যাপ্ত ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রম না করলে তার ওজন বাড়তে শুরু করে। অর্থাৎ ক্যালরি গ্রহণ ও খরচের মধ্যে ভারসাম্য থাকতে হবে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা গেছে স্থূলতার সঙ্গে প্রাচুর্যের একটি নিবিড় যোগসূত্র রয়েছে। যাদের অনেক টাকাকড়ি আছে, তারা প্রচুর ক্যালরি সমৃদ্ধ খাবার বেশি খায় এবং ঘন ঘন খায়। প্রয়োজনের তুলনায় অতি বেশি ক্যালরি শরীর কাজে লাগাতে পারে না। তাই বাড়তি ক্যালরি শরীর চর্বিতে রূপান্তরিত করে শরীরে পুঞ্জীভূত করে। যুক্তরাষ্ট্রে ঠিক এটিই ঘটে যাচ্ছে আর তা মিশেল ওবামার দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান মোতাবেক যুক্তরাষ্ট্রের ৩২ শতাংশ শিশু ও কিশোর স্থূলতায় আক্রান্ত। ৬ থেকে ১১ বছর বয়স্ক ২০ শতাংশ এবং ১২ থেকে ১৯ বছর বয়স্ক ১৮ শতাংশ শিশু-কিশোর স্থূল। যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে এসব শিশু-কিশোর মোটা মানুষ হিসেবে বেড়ে উঠবে এবং বাকি জীবন স্থূলতা নিয়ে কাটাবে। বিপদ আরও আছে। অতি স্থূল মানুষ সহজেই ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, স্ট্রোক ও হৃদরোগে আক্রান্ত হয় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মৃত্যুবরণ করে। অতিকায় দেহ বা ওজন নিয়ে মানুষ বেশি চলাফেরা বা কাজকর্ম করতে পারে না। এতে করে কর্মক্ষমতা ও কর্মদক্ষতা হ্রাস পাওয়ার কারণে শারীরিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। মিশেল ওবামার পরিকল্পনা মোতাবেক স্থূলতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার মৌলিক পদক্ষেপ হল কম খাওয়া এবং ওজন কমানোর জন্য বেশি পরিশ্রম বা ব্যায়াম করা। বেশি থাকতে কম খাওয়া- এ এক দুঃসাধ্য ব্যাপার।    আমি বহু দেশে গেছি। জাপান ছাড়া আর সব উন্নত দেশে মানুষের লাইফস্টাইল প্রায় একই রকম। জাপানিদের খাওয়া-দাওয়া সুষম ও স্বাস্থ্যসম্মত বলে সেখানে স্থূলতা এখনও মহামারী আকারে দেখা দেয়নি। কিন্তু অন্যান্য উন্নত দেশে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে খাবার-দাবারের প্রাচুর্য চোখে পড়ার মতো, দামেও সস্তা। উন্নত বিশ্বের শিশু-কিশোর এমনকি প্রাপ্তবয়স্কদের প্রিয় ও আকর্ষণীয় খাবারের তালিকায় রয়েছে আইসক্রিম, জাঙ্ক ফুড ও প্রচুর চিনি সমৃদ্ধ কোমল পানীয়। প্রায়ই সবগুলো আইটেমই হয় জাম্বো সাইজের। ক্যালরিতে ভরপুর এসব খাবার ঘন ঘন খেলে যে কোনো শিশু-কিশোর অল্প সময়ের মধ্যে মোটা হতে শুরু করলেও তাদের খাবারের প্রতি অনীহা থাকে না এবং আকর্ষণ বাড়ে অতিমাত্রায়। খাবারের প্রতি আকর্ষণ মানুষকে আরও বেশি পরিমাণে খেতে প্রলুব্ধ করে। ফলে ওজনও বাড়ে সমানতালে।     আপনার শরীরে ওজন স্বাভাবিক আছে কি-না তা বুঝবেন কী করে? আসুন ঝটপট একটা অংক করে আপনাকে উত্তরটা বলে দিই। আপনার শরীরের ওজন স্বাভাবিক, না বেশি তা নির্ণয় করা হয় বিএমআই বা বডি মাস ইনডেক্স দিয়ে। বিএমআই নির্ণয়ের নিয়মটা মনে রাখবেন। শরীরের ওজনকে উচ্চতার বর্গফল দিয়ে ভাগ করলে যে ফল পাওয়া যাবে তাকে বিএমআই বলা হয়। স্বাভাবিক বিএমআই স্কেল হল ১৮.৫ থেকে ২৪.৯। ধরুন আপনার শরীরের ওজন ৬৮ কেজি এবং উচ্চতা ১.৭৩ মি.। আপনার বিএমআই হল ৬৮ ভাগ বা ২:৯৯ এবং ফলাফল ২২.৭৪। ফলাফল অনুসারে আপনার ওজন একদম পারফেক্ট। বিএমআই ২৪.৯-এর বেশি হলে আপনার শরীরের ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি এবং ১৮.৫-এর কম হলে ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে কম ধরা হবে। মনে রাখবেন, শরীরের ওজন কমিয়ে বা বাড়িয়ে বিএমআই স্বাভাবিক পর্যায়ে আনার সুযোগ রয়েছে আপনার।     বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে খাদ্যের সুষম বণ্টন কোনো সময়েই বাস্তবে রূপ লাভ করবে বলে আশা করার কারণ নেই। তাই এই অসম সমাজ ব্যবস্থায় কেউ না খেয়ে মরবে, আর কেউ অতিমাত্রায় খেয়ে মারা যাবে। দুটিই জাতীয় সংকট। এই সংকট উত্তরণে অশুভ ব্যবসায়িক মনোভাব নিয়ে এগিয়ে এসেছে বিশ্বের ওষুধ কোম্পানিগুলো। কিছুদিন আগে এফডিএ (ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) একটি কোম্পানির স্থূলতা কমানোর ওষুধ বেলবিক বাজারজাত করার অনুমতি প্রদান করেছে।    ওজন কমানোর ওষুধগুলো সাধারণত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত হয় না। এ ধরনের বেশকিছু ওষুধের ইতিহাস ভালো নয়। যুক্তরাষ্ট্রের হেলথ রিসার্চ গ্র“পের পরিচালক ড. সিডনি ওলফ ওজন কমানোর কার্যকর ওষুধ আবিষ্কৃত হবে বলে আশাবাদী নন। তিনি বলেন, এমন কোনো ওষুধ পাওয়ার সম্ভাবনা শূন্য, যা শুধু নিরাপদে ওজন কমাবে অথচ কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকবে না।     স্থূলকায় লোকদের উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস ছাড়াও স্ট্রোক ও হৃদরোগের ঝুঁকি বেশি থাকে। ওজন কমানোর ওষুধ প্রদানের মাধ্যমে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে স্ট্রোক ও হৃদরোগের ঝুঁকি আরও অনেকগুণ বেড়ে যায়। এটা অনেকটা মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা-এর মতো। শুধু বেশি খাবার খাওয়ার জন্যই সব সময় ওজন বাড়ে না, ওজন বাড়ার সঙ্গে খাবার ছাড়াও আবেগ, জৈবিক, সামাজিক, মনস্তাত্ত্বিক, পরিবেশসহ আরও বহু কারণ জড়িয়ে আছে। সুতরাং এতগুলো বহুমুখী সমস্যা সমাধানের জন্য একটিমাত্র বড়ি আবিষ্কার রীতিমতো অসম্ভব ব্যাপার। বিশ্বায়নে যুগে আজকাল সব দেশেই ক্যালরি সমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে লবণ, চিনি ও চর্বি জুড়ে তার স্বাদ বাড়ানো হচ্ছে। অন্যদিকে বিজ্ঞাপন ও সামাজিক স্ট্যাটাস প্রতিনিয়ত আমাদের অতিভোজনে প্ররোচিত করছে। লোভনীয় খাবারের ছবি ও বর্ণনা আমাদের লোভকে অতিমাত্রায় উসকে দিচ্ছে। তাই আমরা খাচ্ছি আর মোটা হচ্ছি।     এ অবস্থায় করণীয় কী? করণীয় একটা আছে। তা শক্ত হলেও অসম্ভব নয়। আমাদের লোভ সংবরণ করতে হবে। আমি বলি- যার জিহ্বা সংযত তার স্বাস্থ্য সুসংহত। আগে যেমন বলছি- শরীরের প্রয়োজনে অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ করলে তা জ্বালিয়ে দিতে হবে, জমতে দেয়া যাবে না। সুষম খাবার উৎকৃষ্ট খাবার। ক্যালরি জ্বালাতে হলে আমাদের একটু কষ্ট করতে হবে। আর তা হল ব্যায়াম ও শারীরিক পরিশ্রম। লাইফস্টাইল পরিবর্তন, সুষম খাবার, শারীরিক পরিশ্রম, ব্যায়াম মানুষকে শারীরিক ও মানসিকভাবে ফিট রাখে, সুস্থ রাখে। শরীর ফিট ও সুস্থ থাকলে মানুষকে দেখতেও সুন্দর ও স্মার্ট লাগে। আর এ দুনিয়ায় সুন্দর ও স্মার্ট থাকতে কে না চায়!

প্রতি বছর বিশ্বে দেড় কোটি শিশু মারা যায় ক্ষুধার্ত অবস্থায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ মানুষ ক্ষুধার্ত। প্রতি ৩.৬ সেকেন্ডে একজন মারা যায় ক্ষুধার তাড়নায়। পৃথিবীর প্রায় ১০০ কোটি মানুষ অপুষ্টিতে ভোগে। বিশ্বব্যাংকের এক পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, অপুষ্টিতে আক্রান্ত এসব মানুষের ৮০ শতাংশ শিশু ও মহিলা। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে, উন্নয়নশীল ও দরিদ্র দেশগুলোর প্রায় ৫০ কোটি শিশু অপুষ্টিতে আক্রান্ত। প্রতিবছর ৫ বছরের কম বয়স্ক প্রায় ৮৫ লাখ শিশু নামেমাত্র বেঁচে থাকলেও উপবাসের কারণে কোনো না কোনো সময় মৃত্যুবরণের জন্য দিন গোনে।



এবার একটি বিপরীতধর্মী প্রসঙ্গ। ২০১০ সালের ফেব্র“য়ারিতে মার্কিন ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা যুক্তরাষ্ট্রের শিশুদের অতিশয় স্থূলতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। মেয়রদের সম্মেলনে বক্তৃতা প্রদানকালে তিনি বলেন, স্থূলতা মহামারী আকারে দেখা দিয়েছে এবং এই স্থূলতা আমেরিকার স্বাস্থ্য ও অর্থনীতির জন্য এক মহাবিপদ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। শরীরে মাত্রাতিরিক্ত চর্বি জমা হলে মানুষ অস্বাভাবিক মোটা হয়ে যায়। জেনেটিক বা জৈবিক কারণ ছাড়াও মানুষের জীবনপদ্ধতি স্থূলতার জন্য বিশেষভাবে দায়ী। সহজভাষায়, মানুষ খাবারের মাধ্যমে অতি বেশি পরিমাণে ক্যালরি গ্রহণ করার পর যৎসামান্য ক্যালরি খরচ করলে অর্থাৎ পর্যাপ্ত ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রম না করলে তার ওজন বাড়তে শুরু করে। অর্থাৎ ক্যালরি গ্রহণ ও খরচের মধ্যে ভারসাম্য থাকতে হবে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা গেছে স্থূলতার সঙ্গে প্রাচুর্যের একটি নিবিড় যোগসূত্র রয়েছে। যাদের অনেক টাকাকড়ি আছে, তারা প্রচুর ক্যালরি সমৃদ্ধ খাবার বেশি খায় এবং ঘন ঘন খায়। প্রয়োজনের তুলনায় অতি বেশি ক্যালরি শরীর কাজে লাগাতে পারে না। তাই বাড়তি ক্যালরি শরীর চর্বিতে রূপান্তরিত করে শরীরে পুঞ্জীভূত করে। যুক্তরাষ্ট্রে ঠিক এটিই ঘটে যাচ্ছে আর তা মিশেল ওবামার দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান মোতাবেক যুক্তরাষ্ট্রের ৩২ শতাংশ শিশু ও কিশোর স্থূলতায় আক্রান্ত। ৬ থেকে ১১ বছর বয়স্ক ২০ শতাংশ এবং ১২ থেকে ১৯ বছর বয়স্ক ১৮ শতাংশ শিশু-কিশোর স্থূল। যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে এসব শিশু-কিশোর মোটা মানুষ হিসেবে বেড়ে উঠবে এবং বাকি জীবন স্থূলতা নিয়ে কাটাবে। বিপদ আরও আছে। অতি স্থূল মানুষ সহজেই ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, স্ট্রোক ও হৃদরোগে আক্রান্ত হয় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মৃত্যুবরণ করে। অতিকায় দেহ বা ওজন নিয়ে মানুষ বেশি চলাফেরা বা কাজকর্ম করতে পারে না। এতে করে কর্মক্ষমতা ও কর্মদক্ষতা হ্রাস পাওয়ার কারণে শারীরিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। মিশেল ওবামার পরিকল্পনা মোতাবেক স্থূলতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার মৌলিক পদক্ষেপ হল কম খাওয়া এবং ওজন কমানোর জন্য বেশি পরিশ্রম বা ব্যায়াম করা। বেশি থাকতে কম খাওয়া- এ এক দুঃসাধ্য ব্যাপার।



আমি বহু দেশে গেছি। জাপান ছাড়া আর সব উন্নত দেশে মানুষের লাইফস্টাইল প্রায় একই রকম। জাপানিদের খাওয়া-দাওয়া সুষম ও স্বাস্থ্যসম্মত বলে সেখানে স্থূলতা এখনও মহামারী আকারে দেখা দেয়নি। কিন্তু অন্যান্য উন্নত দেশে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে খাবার-দাবারের প্রাচুর্য চোখে পড়ার মতো, দামেও সস্তা। উন্নত বিশ্বের শিশু-কিশোর এমনকি প্রাপ্তবয়স্কদের প্রিয় ও আকর্ষণীয় খাবারের তালিকায় রয়েছে আইসক্রিম, জাঙ্ক ফুড ও প্রচুর চিনি সমৃদ্ধ কোমল পানীয়। প্রায়ই সবগুলো আইটেমই হয় জাম্বো সাইজের। ক্যালরিতে ভরপুর এসব খাবার ঘন ঘন খেলে যে কোনো শিশু-কিশোর অল্প সময়ের মধ্যে মোটা হতে শুরু করলেও তাদের খাবারের প্রতি অনীহা থাকে না এবং আকর্ষণ বাড়ে অতিমাত্রায়। খাবারের প্রতি আকর্ষণ মানুষকে আরও বেশি পরিমাণে খেতে প্রলুব্ধ করে। ফলে ওজনও বাড়ে সমানতালে।



আপনার শরীরে ওজন স্বাভাবিক আছে কি-না তা বুঝবেন কী করে? আসুন ঝটপট একটা অংক করে আপনাকে উত্তরটা বলে দিই। আপনার শরীরের ওজন স্বাভাবিক, না বেশি তা নির্ণয় করা হয় বিএমআই বা বডি মাস ইনডেক্স দিয়ে। বিএমআই নির্ণয়ের নিয়মটা মনে রাখবেন। শরীরের ওজনকে উচ্চতার বর্গফল দিয়ে ভাগ করলে যে ফল পাওয়া যাবে তাকে বিএমআই বলা হয়। স্বাভাবিক বিএমআই স্কেল হল ১৮.৫ থেকে ২৪.৯। ধরুন আপনার শরীরের ওজন ৬৮ কেজি এবং উচ্চতা ১.৭৩ মি.। আপনার বিএমআই হল ৬৮ ভাগ বা ২:৯৯ এবং ফলাফল ২২.৭৪। ফলাফল অনুসারে আপনার ওজন একদম পারফেক্ট। বিএমআই ২৪.৯-এর বেশি হলে আপনার শরীরের ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি এবং ১৮.৫-এর কম হলে ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে কম ধরা হবে। মনে রাখবেন, শরীরের ওজন কমিয়ে বা বাড়িয়ে বিএমআই স্বাভাবিক পর্যায়ে আনার সুযোগ রয়েছে আপনার।



বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে খাদ্যের সুষম বণ্টন কোনো সময়েই বাস্তবে রূপ লাভ করবে বলে আশা করার কারণ নেই। তাই এই অসম সমাজ ব্যবস্থায় কেউ না খেয়ে মরবে, আর কেউ অতিমাত্রায় খেয়ে মারা যাবে। দুটিই জাতীয় সংকট। এই সংকট উত্তরণে অশুভ ব্যবসায়িক মনোভাব নিয়ে এগিয়ে এসেছে বিশ্বের ওষুধ কোম্পানিগুলো। কিছুদিন আগে এফডিএ (ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) একটি কোম্পানির স্থূলতা কমানোর ওষুধ বেলবিক বাজারজাত করার অনুমতি প্রদান করেছে।



ওজন কমানোর ওষুধগুলো সাধারণত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত হয় না। এ ধরনের বেশকিছু ওষুধের ইতিহাস ভালো নয়। যুক্তরাষ্ট্রের হেলথ রিসার্চ গ্র“পের পরিচালক ড. সিডনি ওলফ ওজন কমানোর কার্যকর ওষুধ আবিষ্কৃত হবে বলে আশাবাদী নন। তিনি বলেন, এমন কোনো ওষুধ পাওয়ার সম্ভাবনা শূন্য, যা শুধু নিরাপদে ওজন কমাবে অথচ কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকবে না।



স্থূলকায় লোকদের উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস ছাড়াও স্ট্রোক ও হৃদরোগের ঝুঁকি বেশি থাকে। ওজন কমানোর ওষুধ প্রদানের মাধ্যমে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে স্ট্রোক ও হৃদরোগের ঝুঁকি আরও অনেকগুণ বেড়ে যায়। এটা অনেকটা মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা-এর মতো। শুধু বেশি খাবার খাওয়ার জন্যই সব সময় ওজন বাড়ে না, ওজন বাড়ার সঙ্গে খাবার ছাড়াও আবেগ, জৈবিক, সামাজিক, মনস্তাত্ত্বিক, পরিবেশসহ আরও বহু কারণ জড়িয়ে আছে। সুতরাং এতগুলো বহুমুখী সমস্যা সমাধানের জন্য একটিমাত্র বড়ি আবিষ্কার রীতিমতো অসম্ভব ব্যাপার। বিশ্বায়নে যুগে আজকাল সব দেশেই ক্যালরি সমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে লবণ, চিনি ও চর্বি জুড়ে তার স্বাদ বাড়ানো হচ্ছে। অন্যদিকে বিজ্ঞাপন ও সামাজিক স্ট্যাটাস প্রতিনিয়ত আমাদের অতিভোজনে প্ররোচিত করছে। লোভনীয় খাবারের ছবি ও বর্ণনা আমাদের লোভকে অতিমাত্রায় উসকে দিচ্ছে। তাই আমরা খাচ্ছি আর মোটা হচ্ছি।



এ অবস্থায় করণীয় কী? করণীয় একটা আছে। তা শক্ত হলেও অসম্ভব নয়। আমাদের লোভ সংবরণ করতে হবে। আমি বলি- যার জিহ্বা সংযত তার স্বাস্থ্য সুসংহত। আগে যেমন বলছি- শরীরের প্রয়োজনে অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ করলে তা জ্বালিয়ে দিতে হবে, জমতে দেয়া যাবে না। সুষম খাবার উৎকৃষ্ট খাবার। ক্যালরি জ্বালাতে হলে আমাদের একটু কষ্ট করতে হবে। আর তা হল ব্যায়াম ও শারীরিক পরিশ্রম। লাইফস্টাইল পরিবর্তন, সুষম খাবার, শারীরিক পরিশ্রম, ব্যায়াম মানুষকে শারীরিক ও মানসিকভাবে ফিট রাখে, সুস্থ রাখে। শরীর ফিট ও সুস্থ থাকলে মানুষকে দেখতেও সুন্দর ও স্মার্ট লাগে। আর এ দুনিয়ায় সুন্দর ও স্মার্ট থাকতে কে না চায়!

কাঁকরোল খাওয়ার উপকারিতা

কাঁকরোল। ছোট কাঁঠালের মতো দেখতে কাঁটা কাঁটা সবুজ রঙ্গের একটি সবজি। কাকরোল তরকারি, ভাজি বা সিদ্ধ করে ভর্তা হিসেবে খাওয়া যায়। এতে প্রচুর ভিটামিন, মিনারেল, ফাইবার, কার্বোহাইড্রেট, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, লুটেইন, জেনান্থিন প্রভৃতি থাকে, যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী।  বিশেষজ্ঞরা বলেন, কাঁকরোলে টমেটোর চেয়ে ৭০ গুণ বেশি লাইকোপিন থাকে, গাজরের চেয়ে ২০ গুণ বেশি বিটা ক্যারোটিন থাকে, কমলার চেয়ে ৪০ গুণ বেশি ভিটামিন সি থাকে এবং ভুট্টার চেয়ে ৪০ গুণ বেশি জিয়াজেন্থিন থাকে। তাই স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় কাঁকরোল রাখা ভালো। এবার জেনে নিন কাঁকরোলের আরও নানা উপকারিতা-  ক্যান্সার প্রতিরোধ করে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, কাঁকরোলের পুষ্টি উপাদান ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে এবং ক্যান্সার কোষের সংখ্যা বৃদ্ধিকে ধীর গতির করতে পারে। এতে নির্দিষ্ট একটি প্রোটিন থাকে, যা ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধিকে প্রতিহত করতে পারে। এজন্যই কাঁকরোলকে ‘স্বর্গীয় ফল’ আখ্যা দেওয়া হয়।  বিষণ্ণতা প্রতিহত করে   কাঁকরোলে সেলেনিয়াম, মিনারেল এবং ভিটামিন থাকে, যা নার্ভাস সিস্টেমের উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখে। তাই বিষণ্ণতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সাহায্য করে কাঁকরোল। কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়  যাদের কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি বা যাদের উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরলের রয়েছে তাদের নিশ্চিন্তে কাঁকরোল খেতে পারেন। এটি উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।   মেদ কমায় কমলার চেয়ে শতকরা ৪০ ভাগ বেশি ভিটামিন সি রয়েছে কাঁকরোলে। ভিটামিন সি শরীরের অতিরিক্ত মেদ পুড়িয়ে ফেলতে সাহায্য করে।আর রক্তে ভিটামিন সি’র পরিমাণ কম থাকলে ফ্যাট বার্নিং কম হয়।ফলে ওজন কমে না।যাদের রক্তে প্রয়োজনীয় পরিমাণে ভিটামিন সি আছে,তাদের ফ্যাট বার্নিং হয় শতকরা ২৫ ভাগ।ফলে তাদের মোটা হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।  অ্যানেমিয়া প্রতিরোধ করে কাঁকরোলে প্রচুর আয়রন থাকার পাশাপাশি ভিটামিন সি ও ফলিক এসিড ও থাকে। এ কারণে নিয়মিত এটি খেলে অ্যানেমিয়ার প্রতিহত করা সম্ভব হয়।   কার্ডিওভাস্কুলার ডিজিজ প্রতিরোধ করে যেহেতু কাঁকরোলে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে তাই এটি কার্ডিওভাস্কুলার রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। সক্রিয় জীবনযাপনের পাশাপাশি কাঁকরোল খাওয়া হৃদস্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী।   দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটায় কাঁকরোলে চোখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী ভিটামিন, বিটাক্যারোটিন ও অন্যান্য উপাদান থাকে, যা দৃষ্টিশক্তির উন্নতিতে সাহায্য করার পাশাপাশি চোখের ছানি প্রতিরোধেও সাহায্য করে।   তারুণ্য ধরে রাখে কোষের কার্যক্রমকে উদ্দীপিত করার মাধ্যমে এবং স্ট্রেস কমানোর মাধ্যমে বয়স বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে ধীর গতির করতে সাহায্য করে কাঁকরোল। কোলাজেনের গঠনকে পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে বয়সের ছাপ প্রতিরোধেও ভূমিকা রাখে এটি।   হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনাকে কমিয়ে দেয় গবেষণায় পাওয়া গেছে যাদের শরীরে লাইকোপিনেরে মাত্রা বেশি, তাদের চেয়ে যাদের শরীরে এর মাত্রা কম তাদের শতকরা ৫০ ভাগ বেশি হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা রয়েছে। তাহলে কাঁকরোল আপনার হার্টেরও উপকার করবে নিশ্চয়ই।   ত্বকের যত্নে কাঁকরোলে আছে ভুট্টার চেয়ে শতকরা ৪০ ভাগ বেশি জিযানথেন এবং গাজরের চেয়ে শতকরা ২০ ভাগ বেশি বিটা ক্যারোটিন, আছে ভিটামিন ই। এগুলো আপনার ত্বককে দূষণ থেকে রক্ষা করে। আপনার ত্বকে বয়সের ছাপ ফেলতে দেয় না। কোন কোন দেশে কাঁকরোলের জুস পাওয়া যায়। কাঁকরোলের জুস ত্বকের জন্য উপকারি।


কাঁকরোল। ছোট কাঁঠালের মতো দেখতে কাঁটা কাঁটা সবুজ রঙ্গের একটি সবজি। কাকরোল তরকারি, ভাজি বা সিদ্ধ করে ভর্তা হিসেবে খাওয়া যায়। এতে প্রচুর ভিটামিন, মিনারেল, ফাইবার, কার্বোহাইড্রেট, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, লুটেইন, জেনান্থিন প্রভৃতি থাকে, যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী।


বিশেষজ্ঞরা বলেন, কাঁকরোলে টমেটোর চেয়ে ৭০ গুণ বেশি লাইকোপিন থাকে, গাজরের চেয়ে ২০ গুণ বেশি বিটা ক্যারোটিন থাকে, কমলার চেয়ে ৪০ গুণ বেশি ভিটামিন সি থাকে এবং ভুট্টার চেয়ে ৪০ গুণ বেশি জিয়াজেন্থিন থাকে। তাই স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় কাঁকরোল রাখা ভালো। এবার জেনে নিন কাঁকরোলের আরও নানা উপকারিতা-

ক্যান্সার প্রতিরোধ করে
সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, কাঁকরোলের পুষ্টি উপাদান ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে এবং ক্যান্সার কোষের সংখ্যা বৃদ্ধিকে ধীর গতির করতে পারে। এতে নির্দিষ্ট একটি প্রোটিন থাকে, যা ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধিকে প্রতিহত করতে পারে। এজন্যই কাঁকরোলকে ‘স্বর্গীয় ফল’ আখ্যা দেওয়া হয়।

বিষণ্ণতা প্রতিহত করে


কাঁকরোলে সেলেনিয়াম, মিনারেল এবং ভিটামিন থাকে, যা নার্ভাস সিস্টেমের উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখে। তাই বিষণ্ণতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সাহায্য করে কাঁকরোল। কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়

যাদের কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি বা যাদের উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরলের রয়েছে তাদের নিশ্চিন্তে কাঁকরোল খেতে পারেন। এটি উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।

 মেদ কমায়
কমলার চেয়ে শতকরা ৪০ ভাগ বেশি ভিটামিন সি রয়েছে কাঁকরোলে। ভিটামিন সি শরীরের অতিরিক্ত মেদ পুড়িয়ে ফেলতে সাহায্য করে।আর রক্তে ভিটামিন সি’র পরিমাণ কম থাকলে ফ্যাট বার্নিং কম হয়।ফলে ওজন কমে না।যাদের রক্তে প্রয়োজনীয় পরিমাণে ভিটামিন সি আছে,তাদের ফ্যাট বার্নিং হয় শতকরা ২৫ ভাগ।ফলে তাদের মোটা হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

অ্যানেমিয়া প্রতিরোধ করে
কাঁকরোলে প্রচুর আয়রন থাকার পাশাপাশি ভিটামিন সি ও ফলিক এসিড ও থাকে। এ কারণে নিয়মিত এটি খেলে অ্যানেমিয়ার প্রতিহত করা সম্ভব হয়।

 কার্ডিওভাস্কুলার ডিজিজ প্রতিরোধ করে
যেহেতু কাঁকরোলে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে তাই এটি কার্ডিওভাস্কুলার রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। সক্রিয় জীবনযাপনের পাশাপাশি কাঁকরোল খাওয়া হৃদস্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী।

 দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটায়
কাঁকরোলে চোখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী ভিটামিন, বিটাক্যারোটিন ও অন্যান্য উপাদান থাকে, যা দৃষ্টিশক্তির উন্নতিতে সাহায্য করার পাশাপাশি চোখের ছানি প্রতিরোধেও সাহায্য করে।


তারুণ্য ধরে রাখে
কোষের কার্যক্রমকে উদ্দীপিত করার মাধ্যমে এবং স্ট্রেস কমানোর মাধ্যমে বয়স বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে ধীর গতির করতে সাহায্য করে কাঁকরোল। কোলাজেনের গঠনকে পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে বয়সের ছাপ প্রতিরোধেও ভূমিকা রাখে এটি।

 হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনাকে কমিয়ে দেয়
গবেষণায় পাওয়া গেছে যাদের শরীরে লাইকোপিনেরে মাত্রা বেশি, তাদের চেয়ে যাদের শরীরে এর মাত্রা কম তাদের শতকরা ৫০ ভাগ বেশি হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা রয়েছে। তাহলে কাঁকরোল আপনার হার্টেরও উপকার করবে নিশ্চয়ই।

 ত্বকের যত্নে
কাঁকরোলে আছে ভুট্টার চেয়ে শতকরা ৪০ ভাগ বেশি জিযানথেন এবং গাজরের চেয়ে শতকরা ২০ ভাগ বেশি বিটা ক্যারোটিন, আছে ভিটামিন ই। এগুলো আপনার ত্বককে দূষণ থেকে রক্ষা করে। আপনার ত্বকে বয়সের ছাপ ফেলতে দেয় না। কোন কোন দেশে কাঁকরোলের জুস পাওয়া যায়। কাঁকরোলের জুস ত্বকের জন্য উপকারি।