Now you have implemented jQuery library into your blog. Now lets see how to add scrolling recent posts widget to blogger. If you've already inserted jQuery code then don't put it again. Now Add A new HTML/JavaScript widget Then paste the code given below:
Showing posts with label নারী স্বাস্থ্য. Show all posts
Showing posts with label নারী স্বাস্থ্য. Show all posts

Wednesday, August 14, 2019

স্তন ক্যান্সার সনাক্ত করণে শতভাগ নিশ্চয়তা দিচ্ছে AI প্রযুক্তি

স্তন ক্যান্সার সনাক্ত করণে শতভাগ নিশ্চয়তা দিচ্ছে AI প্রযুক্তি


ক্যান্সার বা কর্কটরোগ খুব সাংঘাতিক একটি রোগ। এখনও পর্যন্ত এই রোগে মৃত্যুর হার অনেক বেশি। প্রাথমিক অবস্থায় ক্যান্সার সহজে ধরা পড়ে না। ফলে শেষ পর্যায়ে গিয়ে ভালো চিকিৎসা করালেও তা সারানো সম্ভব হয় না, বরং কোনও কোনও সময় তা মারাত্মক আকার ধারণ করে। 


বাস্তবিক অর্থে, এখনও পর্যন্ত ক্যান্সার চিকিৎসায় পুরোপুরি কার্যকর কোনও ওষুধ আবিষ্কৃত হয়নি। ক্যান্সার সারানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়। তবে প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পরলে এই রোগ সারানোর সম্ভাবনা অনেকাংশে বেড়ে যায়। বর্তমানে ক্যান্সার নিয়ে প্রচুর গবেষণা হচ্ছে এবং এ সম্পর্কে নতুন নতুন অনেক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। ক্যান্সার কী ? বিশ্বের সমস্ত প্রাণীর শরীর অসংখ্য ছোটো ছোটো কোষের মাধ্যমে তৈরি। এই কোষগুলো একটা নির্দিষ্ট সময় মারা যায়। এই পুরনো কোষগুলোর জায়গায় নতুন কোষ জন্মায়। সাধারণত, কোষগুলো নিয়ন্ত্রিতভাবে এবং নিয়মমতো বিভাজিত হয়ে নতুন কোষের জন্ম দেয়। যখন এই কোষগুলো কোনও কারণে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়তে থাকে তখনই ত্বকের নিচে মাংসের দলা অথবা চাকা দেখা যায়। একেই টিউমার বলে। এই টিউমার বিনাইন বা ম্যালিগন্যান্ট হতে পারে। এই ম্যালিগন্যান্ট টিউমারকেই ক্যান্সার বলে। ক্যান্সার অনেক ধরনের হয়। স্তন ক্যান্সার তার মধ্যে একটি। 




স্তন ক্যান্সার বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মেয়েদের হয়। স্তন ক্যান্সারে নারীদের মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। নিয়মিত ব্যায়াম, শরীরের ওজন নিয়ণ্ত্রণ ও সন্তান হওয়ার পর অন্তত ছয় মাস বাচ্চাকে স্তন্যপান করালে কিছুটা হলেও স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ করা যায়। এই রোগে নারীদের সচেতন করার পাশাপাশি এখন পুরুষদেরকেও সচেতন করা হচ্ছে।

যদিও পুরুষদের স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার হার খুবই কম। দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যে প্রতিবছর ৪০ হাজার মহিলা স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন, সেই তুলনায় মাত্র ৩০০ জন পুরুষ এই রোগে আক্রান্ত হন।

 স্তন ক্যান্সারের উপসর্গ -
ক) স্তনের কোনও অংশ চাকা চাকা হয়ে যাওয়া অথবা স্তনের মধ্যে লাম্প দেখা যায়।
খ)স্তনের আকৃতিতে পরিবর্তন হয়।
গ) স্তনবৃন্তের আকারে পরিবর্তন হয়।
ঘ) স্তনবৃন্ত থেকে রক্ত বা তরল পদার্থ নিঃসৃত হয়।
ঙ) স্তনবৃন্তের আশেপাশে ফুসকুড়ি বেরোনো।
চ) স্তনের ভেতরের অংশ শক্ত বোধ হয়।
ছ) স্তনের চামড়ার রং পরিবর্তন হওয়া বা চামড়া মোটা হয়ে যায়।


 চিকিৎসা পদ্ধতি - প্রাথমিক পর্যায়ে এই রোগ ধরা পড়লে শতকরা ৯০-৯৫ ভাগ রোগী সুস্থ হতে পারেন। এই ক্যান্সারের চিকিৎসা সাধারণত- সার্জারি, কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি, হরমোন থেরাপি এগুলির মাধ্যমে হয়ে থাকে।
 সার্জারি : স্তন ক্যান্সারের যেকোনো পর্যায়েই রোগীর সার্জারি করার প্রয়োজন হতে পারে। অনেক সময় শুধু টিউমার কেটে ফেলা হলেও কিছু ক্ষেত্রে পুরো স্তনই বাদ দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

কেমোথেরাপি : বেশিরভাগ ক্যান্সার রোগীকেই কেমোথেরাপি নিতে হয়। যদিও, কেমোথেরাপিতে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে, তবুও রোগীকে সুস্থ করে তোলার জন্য কেমোথেরাপির বিকল্প নেই। রোগীর শারীরিক অবস্থা, কেমোথেরাপির কার্যকারিতা, রোগীর আর্থিক অবস্থা ইত্যাদি বিবেচনা করেই ক্যান্সার বিশেষজ্ঞরা উপযুক্ত পরামর্শ দেন।

রেডিওথেরাপি : বিশেষ ধরনের মেশিনের মাধ্যমে রোগীদের রেডিওথেরাপি চিকিৎসা দেওয়া হয়। এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তুলনামূলকভাবে কম। সাধারণ কেমোথেরাপির পরই রেডিওথেরাপি দেওয়া হয়।

হরমোন থেরাপি : সব স্তন ক্যান্সারের রোগীর জন্য হরমোন থেরাপির দরকার নেই। ক্যান্সার বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমেই শনাক্ত করেন হরমোন চিকিৎসা কোন রোগীর দরকার। ক্যান্সার বিশেষজ্ঞদের চেয়েও নিখুঁতভাবে ক্যান্সার শনাক্ত করতে সক্ষম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এ.আই (Artificial Intelligence) নামক অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। চিকিৎসা ক্ষেত্রে এ.আই-এর ব্যবহার ক্যান্সার রোগে মৃত্যুর সংখ্যা বছরে ২২ হাজার কমাতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।


 সম্প্রতি লন্ডনের একদল গবেষক জানিয়েছে, অত্যাধুনিক এ.আই প্রযুক্তির দ্বারা স্তন ক্যান্সারের বিভিন্ন দিকগুলি শনাক্ত করা গেছে। এর ফলে, পাঁচ ধরনের স্তন ক্যান্সারকে আলাদাভাবে চিন্হিত করা সম্ভব হয়েছে, যেগুলিকে এতদিন একই ধরনের অন্তর্গত বলে গণ্য করা হত। এই প্রতিটা ধরন কীভাবে ভিন্ন ভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতিতে সাড়া দিতে পারে , সে বিষয়েও এই গবেষণার ফলাফল আলোকপাত করেছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অস্ত্রোপচারের সংখ্যা ৩০ শতাংশেরও বেশি কমিয়ে দিয়েছে। শুধু যুক্তরাজ্যেই প্রতি বছর ৪০ হাজার নারী স্তন ক্যান্সারে মারা যান। কিন্তু, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে স্তন ক্যান্সার শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এর ফলে, রোগীদের দ্রুত সুস্থ করে তোলা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

source:

Sunday, August 11, 2019

নিমেই রয়েছে বেশ কয়েকটি রোগের সমাধান, ম্যাজিকের মতো সারবে অসুখ

নিমেই রয়েছে বেশ কয়েকটি রোগের সমাধান, ম্যাজিকের মতো সারবে অসুখ

নিমপাতার গুণাগুণ সম্পর্কের নানা লোকের নানা মত। কিন্তু বাড়ির পাশেই যদি নিমগাছ থাকে তাহলে আপনি খুবই সৌভাগ্যবান। কারণ বেশ কয়েকটি উপকারে লাগতে পারে নিমপাতা। সেগুলি কী জেনে নিন— 


• কেটে বা ছড়ে গেলে বা পোকার কামড় খেলে ক্ষতস্থানে নিমপাতা বাটা লাগিয়ে নিন। ইনফেকশন হবে না। ক্ষত তাড়াতাড়ি শুকোবে।

• খুশকির সমস্যা থাকলে নিমপাতা জলে সেদ্ধ করুন। জলের রং সবুজ হলে নামিয়ে ঠান্ডা করুন। শ্যাম্পু করার পরে ওই জল দিয়ে চুল ধুয়ে নিন।

• চোখ জ্বালা করলে বা চোখ লাল হয়ে গেলে নিমপাতা জলে সেদ্ধ করুন। জল ঠান্ডা হলে, তাই দিয়ে চোখ ধুলে উপকার পাবেন।

• ব্রণ বা মুখে কালো ছোপ থাকলে নিমপাতা বাটা লাগিয়ে নিন।

• মধুর মধ্যে নিম পাতার রস মেশান। কানের ভিতর ইনফেকশন হলে বা কানের ভিতরে চুলকানি হলে এই মিশ্রণের দু-চার ফোঁটা কানের ভিতরে লাগান।

• ত্বকে বিভিন্ন ধরনের রোগ হয়। কাঁচা হলুদ বাটার সঙ্গে নিমপাতা বাটা মিশিয়ে ব্যবহার করুন।

• নিমপাতা কুচি করে এক গ্লাস জলের সঙ্গে মিশিয়ে খান। এতে শরীরে রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা বাড়বে।

• দাঁতে সমস্যা হলে বা মুখে দুর্গন্ধ হলে নিম ডাল দিয়ে দাঁত মাজুন।

• ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও নিমপাতা খুব উপকারী। নিয়ম করে নিমপাতা খান।

• পেটের সমস্যা হলেও নিমপাতা খেলে উপকার পাবেন। 

Thursday, August 8, 2019

ঘন ঘন প্রস্রাব কেন হয় এবং কিভাবে মুক্তি পাবেন

শরীরে মূত্র তৈরি এবং দেহ থেকে তা নিঃসরণের জন্য যে অঙ্গসমূহ কাজ করে সেগুলোতে কোনো কারণে ইনফেকশন দেখা দিলে তাকে ইউনারি ট্রেক্ট ইনফেকশন (ইউটিআই বা UTI) বলে। আজকাল মেয়েদের মধ্যে এ অসুখটির প্রকোপ দেখা যাচ্ছে খুব বেশি। তবে একটু সতর্ক হলে এ রোগ থেকে আমরা মুক্তি পেতে পারি।


শরীরে মূত্র তৈরি এবং দেহ থেকে তা নিঃসরণের জন্য যে অঙ্গসমূহ কাজ করে সেগুলোতে কোনো কারণে ইনফেকশন দেখা দিলে তাকে ইউনারি ট্রেক্ট ইনফেকশন (ইউটিআই বা UTI) বলে। আজকাল মেয়েদের মধ্যে এ অসুখটির প্রকোপ দেখা যাচ্ছে খুব বেশি। তবে একটু সতর্ক হলে এ রোগ থেকে আমরা মুক্তি পেতে পারি।


মূত্র নালীর সংক্রামন বা ইউটিআই রোগের কারণ
১.বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়া (৯৫% ) এবং কিছু ক্ষেত্রে ফাঙ্গাস,প্রোটিয়াস,কেবসিয়েলা,সিউডোমনাস অন্যতম।
২. এ ছাড়া অনেকের এলার্জি জনিত কারনেও হতে পারে (সাময়িক হতে দেখা যায়)
৩. দীর্ঘসময় মূত্রতন্ত্রে জীবাণু অবস্থান করলেই UTI এর লক্ষণ গুলো দেখা যায়।
৪. মূত্রনালীর সক্রমন খুব বেশী হয় মেয়েদের। কারণ মেয়েদের মূত্রনালীর দৈর্ঘ্য ছোট,মেয়েদের মূত্রনালীর দৈর্ঘ্য মাত্র ১.৫ ইঞ্চি, অথচ ছেলেদের ৮ ইঞ্চি।
৫. মেয়েদের মূত্রদ্বার ও যোনিপথ খুব কাছাকাছি, মাসিক ঋতুস্রাবের সময় অনেক মেয়েরা ময়লা, ছেরা ও নোংরা জাতীয় কাপড় ব্যবহার করেন, এতে জীবানু প্রথমে যোনিপথে ও পরে সংলগ্ন মূত্রনালীকে সংক্রমিত করে
৬. মেয়েদের প্রস্রাব না করে আটকে রাখার প্রবণতা বেশি, তাই প্রস্রাবে সংক্রমন হওয়ার সম্ভাবনা বেশী।
৭. যারা পানি কম পান করেন
৮. ডায়াবেটিস আছে যাদের
৯. প্রস্টেট গ্রন্থি বড় হলে

ষাটের বেশি বয়স হলে, যাদের রোগ অথবা প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাদের বেলায়।
লক্ষণসমূহ
১) ঘন ঘন প্রস্রাব
২) প্রস্রাবের প্রচণ্ড চাপ অনুভব
৩) প্রস্রাবের সময় ব্যাথা, জ্বালাপোড়া ও অসহ্য অনুভূতি
৪) তল পেটে স্বাভাবিকভাবে অথবা চাপ দিলে ব্যাথা অনুভব
৫) ঘন ফেনার মত অথবা দুর্গন্ধযুক্ত প্রস্রাব
৬) জ্বর-কাঁপুনিসহ অথবা কাঁপুনি ছাড়া
৭) বমি বমি ভাব ও বমি হওয়া
৮) কোমরের পাশের দিকে অথবা পিছনে মাঝামাঝি অংশে ব্যাথা
৯) প্রস্রাবের চাপে রাতে বার বার ঘুম ভেঙ্গে যাওয়া।

চিকিৎসা/ঘন ঘন প্রসাব থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়
১. ড্রাগ থেরাপি হিসাবে চিকিৎসকরা নিম্ন লিখিত গ্রুপের ঔষধ সমুহ ব্যাবহার করে থাকেন, সেফালোস্পরিন, লিভোফক্সাসিন, গ্যাটিফক্সাসিন ইত্যাদি – খুবই ভাল যা ৯৬% কার্যকর ব্যাক্টেরিয়া জনিত কারনে হলে।
২. অন্যদিকে ফাংগাসের কারনে হলে এন্টি ফাংগাল ড্রাগস দিয়ে থাকেন সেই সাথে চুলকানি থাকলে তা রোধ করার জন্য এন্টি ফাংগাল বা করটিকস্টারয়েড জাতীয় ক্রিম ও দেওয়া হয় বাহিরের চুলকানি দূর করার জন্য এবং বেশি বেথা থাকলে নিউরোস্পাস্মটিক ঔষধ বেশ আরাম দায়ক। পুনরাবৃত্তি সংক্রমণ না হওয়ার জন্য একি সাথে সহবাস সঙ্গীকে প্রতিষেধক এন্টিবায়োটিক দেওয়া উচিৎ।
৩. হারবাল: যেহেতু ইহা ব্যাক্টেরিয়ার আক্রমণে হয়ে থাকে তাই ব্যাক্টেরিয়া ধ্বংস কারি এন্টবায়োটিক ছাড়া এখন ও অন্য কিছু নাই, তবে সাপ্লিমেন্টারী হিসাবে WHO কৃতক অনুমদিত এবং সর্বশেষ রিসার্চ অনুসারে নিম্নের দুটি ঔষধ ভাল ফলদায়ক:
– ( Cranberry 750mg Extract Super Strength ট্যাবলেট, যা দিনে তিনটি পর্যন্ত খেতে হবে
– কেনবারি জুস খুবই ফল দায়ক যা দিনে ৩/৪ কাপ খেলে উপকৃত হবেন, তবে যাদের এলার্জি আছে তাদের জন্য নিষেধ।
অথবা ট্যাবলেট Bromelain 80 mg দিনে দুবার খেতে পারেন, তবে ইহা শিশুদের জন্য নিষেধ (বারমুলিন মুলত আনারস কে বলা হয়েছে — অর্থাৎ আনারসের সিরাপ দিনে ২/৩ বার খেলে ভাল উপকার পাওায়া যাবে)।

সঠিক চিকিৎসা হলে সাধারণত UTI ২-৩ দিনেই ভাল হয়ে যায়। তবে যাদের UTI কমপ্লিকেটেড (যাদের বার বার UTI হয়, যাদের Sexual অভ্যাস স্বাভাবিক নয়, সাথে ডায়াবেটিস বা অন্যান্য অসুখের উপস্থিতি যেগুলোতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় ইত্যাদি কমপ্লিকেটেড UTI) সেটা ভাল হতে ১-২ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। দরকার হলে শিরা পথেও এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করতে হতে পারে। সেক্ষেত্রে অনেক সময় হাসপাতালে ভর্তিও থাকতে হয়। মনে রাখবেন রোগের লক্ষণ উপশম হওয়া মানেই রোগমুক্তি নয়, চিকিৎসক যতদিন চিকিৎসা চালাতে বলবেন ততদিন চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে। কমপ্লিকেটেড UTI তে সাধারনত ৩-৪ সপ্তাহ অসুধ খেতে হয়।

সতর্কতা:
কোন ওষুধই রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যাতিত সেবন করা নিষেধ।

প্রতিরোধ
যে কোন অসুখে প্রতিরোধই সর্বোৎকৃষ্ট চিকিৎসা। জেনে নিন এই অসুখ প্রতিরোধের কিছু টিপস-
১. দিনে বার বার পানি ও অন্যান্য তরল যেমন ফ্রুট জুস, ডাবের পানি ইত্যাদি খাওয়া। পানি ও অন্যান্য তরল জীবাণুর সংক্রামণ ও বৃদ্ধি প্রতিহত করে মূত্রতন্ত্রকে পরিষ্কার রাখে।
২. বাথরুম ব্যবহারের পরে টয়লেট টিস্যু পিছন থেকে সামনের দিকে না এনে সামনে থেকে পিছনের দিকে ব্যবহার করা- যাতে মলদ্বারের জীবাণু মূত্র পথে এসে সংক্রমণ করতে না পারে।
৩. যৌন সহবাসের আগে ও পরে অবশ্যই প্রস্রাব করা-যাতে মূত্র নালীতে আগত সকল জীবাণু পরিষ্কার হয়। অনেকের সহবাসের পরই UTI শুরু হয়। সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী UTI প্রতিরোধক এন্টিবায়োটিক সহবাসের পর নেয়া যেতে পারে।

তাই উল্লেখিত লক্ষণগুলো দেখলেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। এক্ষেত্রে একজন ইউরোলজিস্ট আপনার জন্য সর্বোৎকৃষ্ট পরামর্শদাতা হতে পারে।
মনে রাখবেন, চিকিৎসায় যার প্রথমবার UTI ভাল হয়েছে, তার ২০% সম্ভাবনা রয়েছে দ্বিতীয়বার ইনফেকশন হওয়ার, যার দ্বিতীয়বার ভাল হয়েছে, তার ৩০% সম্ভাবনা রয়েছে তৃতীয় বার ইনফেকশন হওয়ার- এভাবে সম্ভাবনা বাড়তে থাকে। তাই প্রতিরোধের উপায়গুলো অভ্যাস করুন, সঠিক সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং সুস্থ থাকুন। [১]

প্রস্রাবের আরো যত অসুবিধা

আমাদের মাঝে অনেকেরই প্রস্রাবজনিত নানা ধরনের সমস্যা রয়েছে। প্রস্রাবের সমস্যাগুলো হচ্ছে; যেমন প্রস্রাবে কষ্ট, জ্বালাপোড়া, ঘন ঘন প্রস্রাব, প্রস্রাব ধারণে অক্ষমতা, প্রস্রাবকালীন ঝরা, বিছানায় প্রস্রাব ইত্যাদি। প্রত্যেক ধরনের সমস্যার বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। আর চিকিৎসার পূর্বে অবশ্যই কারণ জানা দরকার, তা না হলে সঠিকভাবে চিকিৎসা গ্রহণ করা হবে না।

প্রথমে আলোচনা করছি প্রস্রাবে কেন কষ্ট ও জ্বালাপোড়া হয় এ সম্পর্কে। আমাদের দেহের প্রস্রাব ধারণের যে আধার রয়েছে, যাকে কিনা মূত্রথলি বলা হয়ে থাকে। কোনো কারণে যদি এর সম্প্রসারণ ক্ষমতা কমে যায়, তখনই ঘন ঘন প্রস্রাব, ঘুমের মাঝে প্রস্রাব এবং দ্রুত প্রস্রাবের বেগ চাপা ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে।

মূত্রথলির সম্প্রসারণ ক্ষমতা কমে যাওয়ার পেছনের কারণ হচ্ছে, মূত্রথলির প্রদাহ; যা কিনা ইনফেকশন, রেডিয়েশন, কেমিক্যাল প্রয়োগ, ক্যাথেটার প্রয়োগ করানো, পাথর জমা ইত্যাদির কারণে হয়ে থাকে। যদি মূত্রনালির মাংসগাত্রে টিউমার বিস্তার লাভ করে কিংবা সংলগ্ন অঙ্গ যেমন প্রস্টেটগ্রন্থি, মলনালি, জরায়ু ইত্যাদির টিউমারের বিস্তারের কারণে প্রস্রাবকালীন কষ্ট বেশি করে দেখা দিতে পারে।

সমস্যাগুলো
করো হয়তো বার্ধক্যজনিত কারণে হচ্ছে, করো ক্ষেত্রে বিভিন্ন রোগব্যাধির কারণে রয়েছে আবার কারো হয়তো মানসিক সমস্যার কারণে অসুবিধা দেখা দিয়েছে।

১. যখন ব্যাকটেরিয়া দ্বারা মূত্রথলিতে ইনফেকশন সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে মেয়েদের সৃষ্টি হয়। তখন মেয়েদের ক্ষেত্রে ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যা সৃষ্টি হয়ে থাকে। দেখা যাবে দিন ও রাতে সবসময়ই ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যা সৃষ্টি হয়ে থাকে। দেখা যাবে দিন ও রাতে সমসময়ই ঘন ঘন প্রস্রাব হচ্ছে। সেই সাথে প্রস্রাব করাকালীন জ্বালাপোড়ার জন্য কষ্ট ভোগ করতে হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে প্রস্রাবের সাথে রক্তও আসতে পারে। অন্যদিকে পুরুষদের বেলায় তাদের প্রস্টেটগ্রন্থির প্রদাহ হলে অথবা মূত্রথলি প্রস্টেটগ্রন্থির প্রদাহ থাকে, তাহলে তলপেটে, কুঁচকিতে, মলদ্বারের আশপাশে, মলদ্বারে অন্ডকোষ ও পুরুষাঙ্গে হালকা মাত্রার ব্যথা আরো ব্যথার ন্যয় অনুভূতি দেখা দিতে পারে। এ সমস্যা প্রস্রাব করাকালীন অথবা বীর্যস্খলনের সময় ছাড়া অন্য সময়েও দেখা দিতে পারে।

২. মানসিক সমস্যার কারণে মূত্রথলির প্রদাহ মধ্যবয়স্ক ও বার্ধক্যে দেখা যায়। অনেক মহিলাই অভিযোগ করে থাকেন যে, তার তলপেটে অথবা যৌনাঙ্গে হালকা ব্যথা হচ্ছে, দিনের বেলায় ঘন ঘন প্রস্রাব হলেও রাত্রে প্রস্রাব আবার ঘন ঘন হচ্ছে না। প্রস্রাব পরীক্ষায় কোনো ইনফেকশন পাওয়া যাবে না। অনেক ক্ষেত্রে লক্ষণগুলো দীর্ঘদিন যাবত থেকে থাকতে পারে; কিন্তু কোনো কারণ হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে না। এ সমস্যাগুলোকে তাই মানসিক কারণ হিসেবেই বিবেচনা করা হয়ে থাকে।

৩. যাদের প্রস্রাবকালীন জ্বালাপোড়া বা কষ্ট থাকে, তাদের চিকিৎসার পূর্বে ভালো করে পরীক্ষা করা উচিত; বিশেষ করে বর্তমান ছাড়াও পূর্বে কোনো প্রস্রাবের অসুবিধা ছিল কিনাÑ মহিলাদের বস্তি দেশের পরীক্ষা এবং পুরুষদের বেলা প্রস্টেট পরীক্ষা অতীব জরুরি, তাছাড়া শারীরিক পরীক্ষা তো অবশ্যই করতে হবে। প্রস্রাব পরীক্ষা, প্রস্টেটগ্রন্থির নিঃসরণ পরীক্ষা এ ধরনের রোগীদের অবশ্যই করা উচিত। আরো কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে, সেটা নির্ভর করবে রোগীর আনুষঙ্গিক উপসর্গের ওপর; যেমন রোগীর এ সমস্যা বারে বারে হয় কিনা, সাথে জ্বর থাকে কিনা ইত্যাদি। এগুলো প্রস্টেটগ্রন্থির তাৎক্ষণিক প্রদাহ হলে বেশি দেখা দেবে প্রস্রাবে ইনফেকশনের তুলনায় বার্ধক্য বয়সে রক্তে সিরাম এসিড ফসফেটেজ বেড়ে গেলে প্রস্টেটগ্রন্থির ক্যান্সার বেড়ে যেতে পারে। শারীরিক পরীক্ষার সময় বস্তি দেশে কিংবা মলনালিতে টিউমার আছে কিনা বা ব্যথা, প্রস্রাবের সাথে রক্ত যায় কিনা ইত্যাদিও দেখা দরকার। যদি শারীরিক পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ শনাক্ত ও কারণ নির্ণয় কিংবা রোগ শনাক্ত করা না যায়, তাহলে প্রস্রাব ও প্রস্টেটগ্রন্থির নিঃসরণ কালচার করে বিভিন্ন ধরনের জীবাণুর উপস্থিতি নিশ্চিত করা উচিত। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি দিয়ে মূত্রথলির, মূত্রনালির ইত্যাদির অবস্থাও স্বচক্ষে দেখে রোগের কারণ নির্ণয় করা যেতে পারে।
এবার পরবর্তী সমস্যায় আসি-

৪. প্রস্রাব ধারণের অক্ষমতা এটা হতে পারে দেহের মূত্রনালি, মূত্রথলির ইত্যাদি অস্বাভাবিকতার কারণে কিংবা শারীরিক চাপ, ইনফেকশন, স্নায়ুযন্ত্রের রোগের কারণে অথবা মূত্রথলির সম্প্রসারণ ক্ষমতা কমে যাওয়ায়, মূত্রথলি বেশি বিস্তৃত হওয়ার ফলে প্রস্রাব ঝরতে পারে। তাছাড়া মহিলাদের জরায়ু নিচে নেমে যাওয়া, কিংবা পুরুষদের প্রস্টেটগ্রন্থি অস্বাভাবিকভাবে বড় হয়ে গেলে, দেহের বস্তি দেশ বা পেলিভিসে টিউমার কিংবা ইনফেকশন হলেও এ ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। কারণ যা-ই হোক, সাধারণত অনৈচ্ছিকভাবে প্রতিবার ১৬০ মিলিমিটারের বেশি প্রস্রাব হয়ে থাকে। টেবলেট ইমিপ্রামিন ২৫ মি. গ্রাম প্রতিবার ১টি করে খেলে অথবা নিফিডিপিন খেলে মূত্রথলির মাংসপেশির সংকোচন ক্ষমতা কমিয়ে আনা যাবে, ফলে প্রস্রাব করার সমস্যার উন্নতি ঘটতে পারে। মূত্রনালির ইনফেকশন, টিউমার অথবা মল জমে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যার আলাদাভাবে চিকিৎসা করাতে হবে।

৫. আরো একটি সমস্যা : ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া এ সমস্যাগুলো মূত্র সংবহনতন্ত্রের যে কোনো অংশের প্রদাহ কারণেও হয়ে থাকে। যদি মারাত্মক ইনফেকশন হয়ে থাকে, তখন মূত্রথলিতে অল্প কিছু প্রস্রাব থাকলেও সবসময় প্রস্রাব করার ইচ্ছা বাড়বে। ঘন ঘন প্রস্রাব ও রাতে যদি প্রস্রাব হওয়ার কারণ হচ্ছে যথা মূত্রনালির ধারণ ক্ষমতা কমে যাবে বিভিন্ন রোগের কারণে অথবা মূত্রথলি সম্পূর্ণভাবে খালি না হয়ে থাকে ফলে মূত্রথলিতে বেশি পরিমাণ প্রস্রাব থেকে যাবে। রাত্রিকালীন প্রস্রাব হওয়ার সমস্যা হৃদরোগের কারণে কিডনির অকার্যকারিতায় ওষুধ ব্যবহারে শারীরিক হাত ও পা ইত্যাদি ফুলা কমাতে গিয়ে, রাতে বেশি করে পানি খাওয়া এলডোসটেরন নামক এক ধরনের হরমোনের রক্তে বেড়ে গেলে ইত্যাদ বহুবিদ কারণে রাত্রে প্রস্রাবের মাত্রা বেড়ে যেতে থাকে। এবার আসি ঘুমের মাঝে কেন অনেকে প্রস্রাব করে থাকে এ ব্যাপারে। আমাদের দেহের মেরুদণ্ডের কোমরের অংশের স্নায়ুতন্ত্র বাচ্চাদের প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণ করে থাকে, তাই ২ বছর পর্যন্ত বিছানায় প্রস্রাব করা একটি সাধারণ ও স্বাভাবিক ব্যাপার। যেহেতু আড়াই বছরের মধ্যেই স্নায়ুতন্ত্রে পরিপক্বতা আসে না, তাই পায়খানা ও প্রস্রাব ধারণ করার ক্ষমতা মস্তিষ্ক থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে।

স্বাভাবিক অবস্থায় এ বয়সের পরে বিছানায় প্রস্রাব করার কথা নয়। তাই ৩ বছরের পরে বিছানায় প্রস্রাব করার কথা নয়। তবে ৩ বছরের পরও শতকরা ১০ ভাগ ক্ষেত্রে এ সমস্যা থাকতে পারে, যা কিনা বংশ কারণে দেরিতে মূত্রনালির নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। যদি বেশিরভাগ বাচ্চার বয়ঃসন্ধির পূর্বেই এ সমস্যা আর থাকে না, তবে যাদের শারীরিক সমস্যা রয়েছে; যেমন মূত্র সংবহনতন্ত্রের ইনফেকশন কোথাও কোনো বাধা রয়েছে তাদের প্রস্রাব উপচেপড়া এবং ঝরার সমস্যা থাকতে পারে। মূত্রথলির স্নায়ুতন্ত্রের সমস্যার কারণে প্রস্রাব বেশি হতে পারে; যার ফলে মূত্রথলির ওভারলোডেও হতে পারে।
উপরোক্ত কারণগুলো যদি ৩ বছরের বেশি বাচ্চারা বিছানায় প্রস্রাব করে থাকে, তাহলে আবার বিবেচনায় আনতে হবে। তবে যাদের শারীরিক রোগ রয়েছে, তাদের শুধু রাত্রীকালীনই প্রস্রাবের সমস্যা থাকে না; দিবা ভাগে সমস্যা দেখা দিতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যাদের কোনো কারণ নেই, তাদের জন্য টেবলেট মেলিপ্রামিন

প্রস্রাবের সাথে রক্ত যাওয়া বিভিন্ন কারণে প্রস্রাবে রক্ত দেখা দিতে পারে। প্রস্রাবে রক্ত দেখা দিলে সেটি মারাত্মক হিসেবে চিন্তা করতে হবে। বিভিন্ন কারণের মধ্যে প্রস্রাবে রক্ত দেখা দিতে পারে।

কোনো মারাত্মক ইনফেকশন, টিউমার, পাথর স্ট্রোক, রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়া সমস্যা, মূত্রনালিতে আঘাত পাওয়া ইত্যাদি। যদি প্রস্রাবের প্রথম দিকে রক্ত আসে, তাহলে বুঝতে হবে মূত্রনালির সম্মুখের অংশে সমস্যা রয়েছে অথবা প্রস্টেটগ্রন্থির সমস্যা রয়েছে। অন্যদিকে রক্ত যদি প্রস্রাবের শেষ ভাগে দেখা দেয়, তাহলে মূত্রনালির পশ্চাৎ ভাগে সমস্যা রয়েছে বুঝতে হবে অথবা মূত্রথলির কোনায় রয়েছে। রক্ত যদি সমস্ত প্রস্রাবের মাঝে মিশে আসা শুরু করে তবে কিডনি মূত্রথলি অথবা কিডনিনালিতেও এরকম সমস্যা হতে পারে। পরিশেষে প্রস্রাবের যে কোনো সমস্যার জন্য দীর্ঘদিন রোগে না ভুগে বিশেষ তত্ত্বাবধানে সঠিক চিকিৎসা নেয়া বাঞ্ছনীয়। [২]

১ ডা. এ এইচ হামিদ আহমেদ
কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।
২  অধ্যাপক এম ফেরদৌস
বিভাগীয় প্রধান (চর্ম ও যৌন)
কুমুদিনী উইমেনস মেডিকেল কলেজ, ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক ও ইমেজিং সেন্টার, ধানমন্ডি।

ভারতের ফর্টিস হাসপাতালের কান্ডঃ ডেঙ্গুতে শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ১৫ দিনে ১৬ লাখ রুপি বিল!!

ভারতের ফর্টিস হাসপাতালের কান্ডঃ ডেঙ্গুতে শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ১৫ দিনে ১৬ লাখ রুপি বিল!!
ভারতের ফর্টিস হাসপাতালের কান্ডঃ ডেঙ্গুতে শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ১৫ দিনে ১৬ লাখ রুপি বিল!!

ডেঙ্গুর চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি ছিল ৭ বছরের একটি মেয়ে। ১৫ দিন পর  ২৭০০ গ্লাভস আর ৫০০ সিরিঞ্জের খরচ দেখিয়ে হাসপাতাল তার বাবা মাকে বিল ধরিয়েছে  ১৬ লাখ টাকার। এরকমই অভিযোগ উঠেছে  ভারতের গুরগাঁও (দিল্লি) ফর্টিস হাসপাতালের বিরুদ্ধে।


জানা গেছে, যমজ দুই বোনের মধ্যে আদ্যা ছিল একটু বড়। ২  মাস আগে ডেঙ্গু হয় তার। তাকে ভর্তি করা হয় দ্বারকার এক বেসরকারি হাসপাতালে। পঞ্চম দিনে বাবা মা তাকে নিয়ে আসেন গুরগাঁও-র ফর্টিস হাসপাতালে। অভিযোগ, তাঁদের কোনও কিছু না জানিয়ে পরদিনই আদ্যাকে ভেন্টিলেটরে দিয়ে দেয় হাসপাতাল।

এরপর তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। মস্তিষ্ক থেকে কিডনি-গুরুত্বপূর্ণ সব অঙ্গ আক্রান্ত হয় ডেঙ্গিতে। হাসপাতাল শুধু ওষুধের বিলই ধরিয়েছে  ৪ লাখ টাকার। শিশুটির ৭০ শতাংশ মস্তিষ্ক ড্যামেজ হয়ে গেলেও হাসপাতাল বলে গোটা শরীরে প্লাজমা ট্রান্সপ্ল্যান্ট করতে হবে, যার খরচ ১৫-২০ লাখ টাকা। তার বাবা মা জিজ্ঞেস করেন, সন্তানের বাঁচার সম্ভাবনা নেই তা পরিষ্কার, তাহলে এই প্লাজমা ট্রান্সপ্ল্যান্টের যৌক্তিকতা কী। অভিযোগ, হাসপাতাল নাকি দাবি করে, মস্তিষ্ক অকেজো হয়ে গেলেও অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ এর ফলে কাজ শুরু করতে পারে।

শিশুটির মা দীপ্তির অভিযোগ, মৃত্যুর পর তাঁর মেয়েকে যে কাপড়ে ঢেকে দেয় হাসপাতাল, বিলে তার দামও ধরে নিয়েছে তারা।

সাংসদ রাজীব চন্দ্রশেখর এ ব্যাপারে টুইট করে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের হস্তক্ষেপ চান।ঘটনার কথা জানতে পেরে এ ব্যাপারে যাবতীয় তথ্য চেয়ে পাঠিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা।

হাসপাতাল অবশ্য বলছে, আদ্যার অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটজনক ছিল, সে ব্যাপারে জানানো হয় তার পরিবারকে। সমস্ত নিয়মকানুন, প্রটোকল মেনেই তার চিকিৎসা হয়েছে বলে দাবি করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

তবে বাস্তবতা  হল, ভারতের বিভিন্ন হাসপাতাল নিয়ে এই ধরনের অভিযোগ নতুন নয়। বেশ কয়েক মাস আগে দিল্লিতে ফর্টিসের বসন্ত কুঞ্জ শাখায় বিহারের এক গরিব মেহনতি মানুষের বাচ্চার মৃতদেহ আটকে রাখা হয়েছিল মাত্র সাড়ে তিন হাজার রুপি বকেয়া আছে, এই অপরাধে।

কিছুদিন আগে কলকাতার এক কর্পোরেট হাসপাতালে প্রায় দুলক্ষ রুপির মেডিক্যাল বিল ওপর মহলে চাপ দেওয়ার পর কীভাবে ছ-সাত হাজারে নেমে এসেছিল, তা নিয়ে বিপুলজিৎ বসুর একটি পোস্ট সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হয়েছিল।

সূত্রঃ বিবিসি বাংলা

Monday, August 5, 2019

পিরিয়ডের সময় কিছু করণীয়

পিরিয়ডের সময় কিছু করণীয়
একটু অসাবধানতার কারণে পিরিয়ডের সময় র‌্যাশ, চুলকানি, ইনফেকশনের সমস্যায় ভোগেন অনেক নারীই। এ সময় স্বাস্থ্যের কারণে অবশ্যই কিছু হাইজিন মেনে চলা উচিত।

প্রতি ৪ ঘণ্টা অন্তর প্যাড বদল করুন। যদি পিরিয়ড চলাকালীন পুরো সময়টা নাও পারেন, প্রথম দু’দিন অন্তত করুন।



যদি রিইউজেবল প্যাড ব্যবহার করে থাকেন তা হলে এক বার ব্যবহারের পর অবশ্যই ভালো করে পরিষ্কার করে রাখুন। পরের বার অপরিষ্কার প্যাড ব্যবহার করলে সংক্রমণ ছড়াতে পারে।

পিরিয়ডের সময় শরীর সব সময় পরিষ্কার রাখুন। হালকা গরম পানি দিয়ে পরিষ্কার করলে ইনফেকশনের ঝুঁকি এড়াতে পারবেন।



কখনো দুটো প্যাড একসঙ্গে ব্যবহার করবেন না। অতিরিক্ত রক্তপাতেক কারণে অনেকে এক সঙ্গে দুটো প্যাড ব্যবহার করেন। প্রকৃতপক্ষে একটা প্যাড যতটা তরল শোষণ করতে পারে, দুটো প্যাডও ততটাই করবে।

পরিষ্কার ও আরামদায়ক প্যান্টি পরুন। অপরিষ্কার ও অস্বস্তিকর প্যান্টি থেকে ঘষা লেগে ইনফেকশনের সম্ভাবনা থাকে।

পিরিয়ডে যেসব খাবার ভুলেও খাবেন না

পিরিয়ডে যেসব খাবার ভুলেও খাবেন না
পিরিয়ডের সময় সব ধরনের খাবার খাওয়া যাবে না।আর পিরিয়ডের সময় শারীরিক কষ্ট কমাতে ডায়েটের দিকেও নজর রাখা প্রয়োজন। এই সময় কী ধরনের খাবার খাওয়া হচ্ছে, তার উপর শরীরের ভালো-মন্দ অনেকাংশেই নির্ভর করে।

পিরিয়ডের সময় সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচতে প্রতি ৩-৪ ঘণ্টা অন্তর অন্তর প্যাডটা বদলে ফেলতে ভুলবেন না যেন! অনেকেই এই সময় সারা দিন ধরে একটাই প্যাড পরে থাকেন, যেমনটা করা একেবারেই উচিত নয়।

পিরিয়ড কি?

প্রতি চন্দ্রমাস পরপর হরমোনের প্রভাবে পরিণত মেয়েদের জরায়ু চক্রাকারে যে পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যায় এবং রক্ত ও জরায়ু নিঃসৃত অংশ যোনিপথে বের হয়ে আসে তাকেই ঋতুচক্র বলে। মাসিক চলাকালীন পেট ব্যথা, পিঠ ব্যথা, বমি বমি ভাব হতে পারে। আর এই মাসিক ঋতুচক্র প্রতি মাসে হয়। এটাই হচ্ছে পিরিয়ড।

দুধ, চিজ বা দই

পিরিয়ডের সময় দুধ, চিজ বা দইয়ের মতো ডেইরি প্রডাক্ট বেশি মাত্রায় খেলে বিশেষ কিছু হরমোনের ক্ষরণ এত মাত্রায় বেড়ে যায় যে শারীরিক কষ্ট মাত্রা ছাড়াতে সময় লাগে না। তাই এসময় দুধ এবং তা থেকে বানানো খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে।

জাঙ্ক ফুড

জাঙ্ক ফুড খাওয়া শরীরের পক্ষে ভাল নয়। আর এই সময় এমন খাবার খেলে তো আরও বিপদ! পিরিয়ডের সময় ফ্রায়েড খাবার খেলে শরীরের মারাত্মক ক্ষতি হয়।

লবণ

পিরিয়ডের সময় বেশি মাত্রায় লবণ রয়েছে এমন খাবার, যেমন ধরুন ফ্রেঞ্চ ফ্রাই জাতীয় পদ বেশি পরিমাণে খেলে শরীরে এমন কিছু পরিবর্তন হতে শুরু করে, যার প্রভাবে পিরিয়ডকালীন কষ্ট আরো বেড়ে যায়। তাই মাসের এই নির্দিষ্ট সময়ে যতটা সম্ভব কম পরিমাণে লবণ খাবেন।

শসা

পিরিয়ডের সময় শসা খেলে নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। শসায় উপস্থিত কিছু উপাদান এই সময় শরীরের উপর খারাপ প্রভাব ফেলে।

খালি পেট

পিরিয়ডের সময় খালি পেটে একেবারেই থাকবেন না। এই সময় যেহেতু মাত্রতিরিক্ত পরিমাণে এনার্জি লস হয়, তাই এই ঘাটতি পূরণের ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করাটা জরুরি।

কোল্ড ড্রিঙ্ক

পিরিয়ডের সময় কোল্ড ড্রিঙ্ক একেবারে খাবেন না। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, এই সময় এই ধরনের পানীয় খেলে ইউটেরাইন ওয়ালে রক্ত থেকে যায়। এমনটা হতে থাকলে ৫-১০ বছর পরে গিয়ে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বহুগুণে বেড়ে যায়।

শরীরচর্চা

এই সময় অল্প বিস্তর শরীরচর্চা চলতে পারে। কিন্তু ইনটেন্স ওয়ার্কআউট করা একেবারেই চলবে না। আর যদি পেটে এবং পিঠে ব্যথা থাকে, তাহলে তো একেবারেই শরীরচর্চা করা যাবে না।

রাত জাগলে

এই সময় রাত জাগলে শরীরের কাজ করার ক্ষমতা একেবারে কমে যায়। সেইসঙ্গে আরও অসুস্থ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়। শুধু তাই নয়, ঘুম না হওয়ার কারণে ক্লান্তিভাব এতটাই বেড়ে যায় যে দৈনন্দিন কাজ কর্মেও বাঁধা আসতে শুরু করে। তাই পিরিয়ডের সময় রাত জাগা একেবারেই চলবে না।

মাসিকের ব্যথা কমাতে করণীয়

মাসিকের ব্যথা কমাতে করণীয়

মাসের বিশেষ সময়ে মাত্রাতিরিক্ত পেট ও পিঠ ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে ব্যবহার করা যেতে পারে গরম পানি ভর্তি ব্যাগ এবং এড়িয়ে চলুন কিছু খাবার।

মাসিকের সময় তল পেট এবং পিঠে ব্যথা হলে গরম পানি ‘হট ওয়াটার ব্যাগ’য়ে ভরে কিছুক্ষণ চেপে রাখলে আরাম পাওয়া যায়, এমনটাই জানান দিল্লির ইরেনে আইভিএফ সেন্টারের পরিচালক ইন্দিরা গনেশান।

তিনি এই ব্যথা উপশমের জন্য আরও কিছু পরামর্শ দেন।

– তল পেটে এবং পিঠের নিচের অংশে গরম পানি ভর্তি হট ওয়াটার ব্যাগ চেপে ধরে রাখলে ব্যথা অনেকটাই কমে আসবে। তাছাড়া বেশি অসুস্থ বোধ করলে কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করে নিলেও উপকার পাওয়া যাবে।

– আদা চা, জেসমিন টি, ক্যামমাইল টি শুধু যে ব্যথা কমাতে সাহায্য করবে তা নয়, রক্ত ক্ষরণের ফলে শরীরের পানির ভারসাম্যও রক্ষা করতে সাহায্য করবে।

– এ সময় প্রচুর ভিটামিন বি, ই, সি সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। এই উপাদানগুলো মাসিকের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।

– আঁশ সমৃদ্ধ খাবার, প্রচুর ফল ও সবজি খেতে হবে। কারণ এই খাবারগুলোতে প্রচুর ভিটামিন, খনিজ উপাদান এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। তাছাড়া এ সময় ঘৃতকুমারী বা অ্যালোভেরা রসের শরবত ও পেঁপে খেলেও ব্যথায় আরাম পাওয়া যাবে।

– অতিরিক্ত দুগ্ধজাত খাবার, মাংস এবং শুঁটিজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।

– অতিরিক্ত চা ও কফি, অর্থাৎ ক্যাফেইন এড়িয়ে চলতে হবে। তাছাড়া এ সময় ধূমপান ও অ্যালকোহল গ্রহণ এড়িয়ে চলতে হবে।

– হালকা ব্যয়াম এ সময় ব্যথা উপশমে বেশ কার্যকর। তাছাড়া যে কোনো এসেনশিয়াল তেল দিয়ে হালকা মালিশেও ব্যথা কমে আসবে।

– অতিরিক্ত ব্যথা হলে ব্যথা কমানোর ওষুধ খাওয়া যেতে পারে। তবে ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

আইএএনএস/বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম