Now you have implemented jQuery library into your blog. Now lets see how to add scrolling recent posts widget to blogger. If you've already inserted jQuery code then don't put it again. Now Add A new HTML/JavaScript widget Then paste the code given below:

Saturday, April 11, 2020

করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) নিজেকে ও অন্যকে সুরক্ষিত রাখার উপায়


সুস্বাস্থ্য বাংলা ডেস্কঃ 
সারা দেশে আতঙ্কের আরেক নাম করোনাভাইরাস। কিভাবে করোনা প্রতিরোধ করা যায় এবং আক্রান্ত রোগীদের করণীয় কি এ বিষয়ে ইনকিলাবকে একান্ত সাক্ষাৎকার প্রদান করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডা. আ ফ ম রুহুল হক এমপি।
সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সাধারণ সর্দি-কাশি করোনাভাইরাস রোগ নয়। এ রোগের লক্ষণগুলো হলো- জ্বর (৯০ শতাংশ), কাশি (৮০ শতাংশ), শ্বাসকষ্ট (২০ শতাংশ), মাথা ব্যথা, গলাব্যথা এবং শরীর ব্যথা। করোনা ভাইরাস মূলত শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায়। মারাত্মক সংক্রমণের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, কিডনির অকার্যকারিতা দেখা দেয়, যা রোগীকে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায়। শিশু এবং বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত মারাত্মক পরিণতি হবার সম্ভাবনা বেশি।
সর্দি, কাশি, শুষ্ক গলা, এবং জ্বর; যখন কেউ অসুস্থ বোধ করেন তখন এসব উপসর্গ দেখা দিতে পারে। আর শুরুতেই এসব উপসর্গ দেখে অনেক সময় বোঝা কঠিন যে এটি ভাইরাস নাকি ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ। তাই আপনি যদি অসুস্থ বোধ করার পর নিশ্চিত না হন যে কী হয়েছে তাহলে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। একজন চিকিৎসক আপনার কফ পরীক্ষার পর নিশ্চিত হতে পারবে আপনার ঠিক কী হয়েছে।
বর্তমান করোনাভাইরাস নাক ঝাড়া এবং কাশির মাধ্যমে সংক্রমিত ব্যক্তির দেহ থেকে বের হওয়া ‘ড্রপলেটের› মাধ্যমে ছড়ায়। ফলে নিরাপদ থাকার সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে যারা সংক্রমিত বা সম্ভবত সংক্রমিত, তাদের কাছ থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকা। সংক্রমণমুক্ত থাকতে সাবান এবং গরম পানি দিয়ে নিয়মিত বিরতিতে হাত ধোয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু তাই নয়, সম্ভব হলে হাত ধোয়ার পর তা মুছতে ‘ডিসপোসেবল টাওয়েল› ব্যবহার করলে ভালো হয়।
আরেকটি বিষয় হচ্ছে, অধিকাংশ ঠান্ডা বা ফ্লু হয় ভাইরাসের কারণে। ফলে সেগুলোর বিরুদ্ধে লড়তে এন্টিবায়োটিক ব্যবহার অর্থহীন। এন্টিবায়োটিক শুধু ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধে কাজে লাগে, ভাইরাস নয়।
আক্রান্ত রোগীদেরকে বাড়িতে/ হাসপাতালে আলাদা রাখার (ওংড়ষধঃরড়হ) ব্যবস্থা করতে হবে, প্রয়োজনে ছঁধৎধহ ঃরহব-এ রাখতে হবে। যারা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়, তারা রোগ প্রকাশের আগেই অর্থাৎ সুপ্তিকালে রোগ ছড়াতে পারে। তাই সভা, সমাবেশ, ভোটের সভা সীমিত রাখতে হবে। নিয়মিত বার-বার হাত ধুতে হবে এবং হাঁচি-কাশি দেয়ার সময় মুখ ধুতে হবে এবং নাক রুমাল দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে।
এক গবেষণায় দেখা গেছে, কেউ কেউ ঘণ্টায় ২০-২১ বার তার হাত/ আঙ্গুল দিয়ে মুখ, চোখ, নাক স্পর্শ করে। জাগ্রত অবস্থায় ১৮ ঘণ্টায় অন্তত ৩৬০ বার মুখমন্ডল, চোখে, নাকে হাত দেয়। সেজন্য বার বার সাবান অথবা এন্টিসেপটিক লোশন দিয়ে হাত পরিষ্কার করা দরকার। যাদের শ্বাসতন্ত্রে সাম্প্রতিক সংক্রমণ রয়েছে এমন রোগীদের থেকে দূরে থাকতে হবে। মাস্ক/ মুখোশ পরা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে মাস্কের অসুবিধা হলো এটি দিয়ে চোখ ঢেকে রাখা যায় না। স্বাভাবিক খাবার এবং প্রচুর পানীয় পান করতে হবে।

Wednesday, February 19, 2020

বাহিরের ভেজাল গুড়ো দুধ আর নয়, এবার বাড়িতেই তৈরি করুন গুঁড়ো দুধ


গুঁড়ো দুধের ব্যাবহার প্রতিটি পরিবারে কম বেশি প্রতিদিনই হয়। সেমাই, মিষ্টি, কিংবা দুধের তৈরি যে কোন খাবার তৈরিতে আমরা গৃহিণীরা এই গুঁড়ো দুধ ব্যাবহার করি। বাজার থেকে কেনা এই গুঁড়ো দুধ কতোটা স্বাস্থ্যসম্মত তা আমরা জানি না। তাই এই গুঁড়ো দুধ যদি আপনার ঘরেই তৈরি করা যায় তবে কেমন হয়।
হুম, ঠিকই শুনেছেন স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে গুঁড়ো দুধ আপনি এখন ঘরেই তৈরি করতে পারবেন। প্রয়োজনীয় উপকরণ ও প্রস্তুত প্রণালী নিতে দিয়ে দিলাম।
উপকরণ: তরল দুধ ১ লিটার, চিনি আধা কাপ।
প্রস্তুত প্রণালী: চুলায় প্যান বসিয়ে দুধ জ্বাল দিতে থাকুন। ফুটে উঠলে চুলার আঁচ একদম কমিয়ে দুধ জ্বাল করুন। উপরে সর পড়লে একটি চামচ দিতে মাঝে মাঝে তা চারদিক থেকে মাঝখানে এনে দিন। এভাবে সবটুকু দুধকে মালাই বানিয়ে বাটিতে ঢেলে রাখুন।
এবার ছড়ানো একটি প্লেটে মালাই ছড়িয়ে শুকিয়ে নিন। শুকিয়ে গেলে প্লেট থেকে আলগা করে হাত দিয়ে ভালোভাবে ভেঙে নিন। ব্লেন্ডারে শুকিয়ে নেয়া মালাই, চিনি দিয়ে ব্লেন্ড করে নিন। ব্যস, তৈরি হয়ে গেল স্বাস্থ্যসম্মত গুঁড়ো দুধ। এটি কাঁচের বয়ামে করে নরমাল ফ্রিজে রেখে এক মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে পারবেন।

Thursday, February 6, 2020

যৌনশক্তি বাড়ানোর প্রাকৃতিক উপায়

যৌনশক্তি বাড়াতে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সম্পন্ন ঔষধি কৌশল এবং মনোবৈজ্ঞানিক চিকিৎসা এখন প্রায় সেকেলে হয়ে পড়েছে। আজকাল যৌনশক্তি বাড়াতে প্রাকৃতিক কামোদ্দীপক বা যৌনশক্তি বর্ধক খাদ্যই অনেক বেশি কার্যকরী হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই বিবাহিত জীবনে যৌনতায় ফিট থাকতে হলে আপনাকে দৈনন্দিন খাবার দাবারের প্রতি পূর্ণ মনোযোগী হতে হবে। কারণ সুখী দাম্পত্য জীবনের জন্য স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ভালো বোঝাপড়া থাকার পাশাপাশি দরকার স্বাস্থ্যকর যৌন জীবন। অথচ প্রায়ই দেখা যায় যৌন সমস্যার কারনে সংসারে অশান্তি হয়, এমনকি বিচ্ছেদ পর্যন্ত হয়। তাই আগে থেকে সতর্ক থাকলেও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি নাও হতে পারেন আপনি। আপনার যৌন শক্তি বৃদ্ধির জন্য কোন প্রকার ঔষধের প্রয়োজন নেই, তার জন্য দৈনন্দিন পুষ্টিকর খাবার দাবারই যথেষ্ট। আপনার খাবার মেনু তে নিয়মিত দুধ, ডিম এবং মধু রাখুন আর নিয়মতান্ত্রিক জীবন যাপন করুন, তাহলে যৌন দুর্বলতায় ভুগবেন না।

সঙ্গমের আকাঙ্ক্ষা বাড়াতে এবং সঙ্গীর সঙ্গে ভালো সময় কাটাতে খেতে পারেন ‘অ্যাফ্রোডিসিয়াক ফুড’ নামে পরিচিত কিছু খাবার।
এই খাবারগুলো যৌনসুখের অনুভূতি জাগিয়ে তোলে এবং বিভিন্ন গ্রন্থিকে উত্তেজিত করে পুরুষ ও নারীদের যৌনসঙ্গমের ক্ষমতা বাড়ায়।

স্বাস্থ্যবিষয়ক এক ওয়েবসাইট এমন কয়েকটি খাবার সম্পর্কে জানায়।

চকলেট: রোমান্স আর আবেগের প্রতীক চকলেট। বলা হয়, চকলেট খাওয়ার পর নারীদের শরীরে যে পরিমাণ ‘এন্ডোফরমিন’ তৈরি হয় তা ঘনিষ্ঠ ‘ফোরপ্লে’য়ের তুলনায় চার গুণ। পাশাপাশি ‘ফোরপ্লে’তে চকলেটের রয়েছে কয়েকটি আকর্ষণীয় ব্যবহারও।

কমলা: একটি মিষ্টি ও আবেদনময়ী ফল এই কমলা। সঙ্গীকে কামোত্তেজক এক অভিজ্ঞতায় প্রতি আকৃষ্ট করতে চকলেটের পরিবর্তে ব্যবহার করা যেতে পারে এই ফল।

ডিম: শেষ কবে কোনো রকম তাড়াহুড়া ছাড়া দুশ্চিন্তামুক্তভাবে সঙ্গীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সময় কাটিয়েছিলেন মনে করতে পারেন? দৈনন্দিন রুটিনবাঁধা জীবন আর সংসারের বিভিন্ন ঝামেলার কারণে যৌনজীবন আকর্ষণীয় করা নিয়ে চিন্তা করার সময় হয়ে ওঠে না অনেকেরই। এখানেই ডিমে থাকা ‘ভিটামিন বি ফাইভ’ এবং ‘ভিটামিন বি-সিক্স’য়ের ভূমিকা। দুটোই মানসিক চাপ কমায়, বৃদ্ধি করে যৌন ক্ষমতাও। পাশাপাশি স্বাস্থ্যগত অন্যান্য উপকার তো আছেই।



তরমুজ: যৌনজীবনে ফুলঝুরি ফোটাতে চাইলে প্রতিদিন তরমুজ খাওয়া শুরু করতে পারেন। ‘প্রাকৃতিক ভায়াগ্রা’ হিসেবে বিবেচিত তরমুজ হল ‘সিট্রুলিন’ নামক একধরনের অ্যামিনো অ্যাসিডের উৎস, যা রক্তনালীর সংকোচন প্রসারণে সাহায্য করে। যৌনাঙ্গ দৃঢ় হওয়া বিষয়ক সমস্যার চিকিৎসায় তরমুজ বেছে নিতে পারেন।


জাফরান: তাৎক্ষনিক উপকার পেতে দৈনিক খাদ্যাভ্যাসে যোগ করা যেতে পারে পর্যাপ্ত পরিমাণ জাফরান। প্রাকৃতিক ‘অ্যাফ্রোডিসিয়াক’ খাবারের উপকারীতা বিষয়ক সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী, এটা যৌন চাহিদা বাড়াতে সহায়ক। ‘ক্রোকাস স্যাটিভাস’ নামক ফুলের গর্ভমুণ্ড বা পরাগধানী শুকিয়ে জাফরান তৈরি করা হয়। ভারতীয়, ইতালিয়ান এবং স্প্যানিশ কুইজিনে জাফরান ব্যবহার করা হয়।


রসুন: সমস্যা মুখোমুখি না হওয়া পর্যন্ত আমরা আমাদের যৌনস্বাস্থ্য ও ক্ষমতার উপর গুরুত্ব দেই না। এই অভ্যাস ত্যাগ করা উচিত এবং প্রতিদিন রসুন খাওয়ার মাধ্যমে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। নারী-পুরুষ উভয়েরই যৌন প্রক্রিয়া, যৌনক্ষমতা এবং সঙ্গমের চাহিদা বৃদ্ধি করতে রসুনের উপকারিতা সুপরিচিত। এর প্রধান কারণ হল, রসুনে প্রচুর পরিমাণে থাকে ‘অ্যালিসিন’ নামক উপাদান, যা যৌনাঙ্গে রক্তপ্রবাহ বৃদ্ধি করে।

২৭টি স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ক টিপস যা থেকে অন্যরা উপকার পেয়েছেন বলে প্রমাণিত!

স্বাস্থ্য এবং পুষ্টি বিষয়ে আসলে বিভ্রান্ত হওয়া সহজ। কেননা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ক পরামর্শের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন পুষ্টিবিদদের মাঝে মতপার্থক্য থাকার কারণে সঠিক দিকনির্দেশনা লাভ করা সত্যি বেশ কঠিন ব্যাপার। তবুও, সমস্ত মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও, কিছু পরামর্শ গবেষণার মধ্য দিয়ে সুস্বাস্থ্যের জন্য অনুসরণীয় হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করতে সমর্থ হয়েছে।


এই পোস্টে সেই সব বিজ্ঞানসম্মত স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ক প্রমাণিত পরামর্শ থেকে ২৭টি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ আপনাদের জন্য নিম্নে উপস্থাপন করা হল:-


১. চিনির ক্যালোরি পান করবেন না

চিনিযুক্ত পানীয় হল আপনার শরীরের মেদ বৃদ্ধির অন্যতম প্রভাবক অর্থাৎ এটি সবচেয়ে মেদযুক্ত আইটেমগুলির মধ্যে একটি।। কঠিন খাবার থেকে গ্রহীত ক্যালরিকে মস্তিষ্ক যেভাবে প্রক্রিয়াজাত করে থাকে, তরল চিনিযুক্ত পানীয়ের ক্ষেত্রে সেইভাবে কাজ করে না। যার জন্যে, আপনি যখন সোডা জাতীয় পানীয় পান করছেন, আপনি অপেক্ষাকৃত বেশি মাত্রায় ক্যালরি গ্রহণ করে ফেলছেন। চিনিযুক্ত পানীয় মেদবাহুল্য বা স্থুলতার সাথে বিশেষভাবে সম্পর্কযুক্ত। এটি টাইপ-২ ডায়বেটিসসহ বহু প্রকারের স্বাস্থ্য সমস্যার জন্য দায়ী।


মনে রাখবেন যে, এই তালিকায় কিছু বিশেষ ফলের জুসও রয়েছে। কারণ, সেগুলোতেও এমনই অধিকমাত্রায় চিনি ব্যবহৃত হয়েছে। এমন জুসে যে সামান্য পরিমাণে এন্টি-অক্সিডেন্টস থাকে, তা চিনির ক্ষতিকারক প্রভাবকে অকার্যকর করার জন্য যথেষ্ট নয়।


২. বাদাম খান

চর্বিযুক্ত হওয়া সত্ত্বেও বাদাম বেশ পুষ্টিগুণসম্মত এবং স্বাস্থ্যকর। বাদাম ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন-ই, ফাইবার এবং আরো বিভিন্ন প্রকার নিউট্রিয়েন্টসে ভরপুর। গবেষণায় দেখা গেছে, বাদাম ওজন কমাতে সহায়ক। এমনকি হৃদরোগ এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি হ্রাসেও বাদাম সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।

বাদামের শতকরা ১০-১৫ শতাংশ ক্যালরি শরীরে শোষিত হয় না। এর ফলে, বাদামের কারণে মেদ বৃদ্ধির দুশ্চিন্তাও আর থাকছে না। কিছু গবেষণালব্ধ ফলাফলে আরো ইঙ্গিত মেলে যে, এটি পরিপাকক্রিয়ার জন্যও বেশ উপকারি।

আরেকটি পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে, কাঠবাদাম অন্যান্য কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেডসমূহের (complex carbohydrates) তুলনায় শতকরা ৬২ শতাংশ দ্রুত ওজন হ্রাসে ভূমিকা রাখে।

৩. প্রক্রিয়াজাত জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে চলুন (পরিবর্তে আসল খাবার/ রান্না করা খাবার খান)

প্রক্রিয়াজাতকৃত জাঙ্কফুড স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এরকম খাদ্যগুলো তৈরিই করা হয়েছে কেবলমাত্র মস্তিষ্কের পরিতৃপ্তির কেন্দ্রবিন্দুকে উত্তেজিত করার কথা মাথায় রেখে। যার জন্য, জাঙ্কফুড বহু মানুষকেই অতিভোজনের নেশায় প্ররোচিত করে। এমনিতে, বেশিরভাগ জাঙ্কফুডে ফাইবার (fiber), প্রোটিন (protein) আর মাইক্রো-নিউট্রিয়েন্টেসের (micro-nutrients) মাত্রা কম থাকে। এমন খাবারগুলোয় মাত্রাতিরিক্ত চিনি, পরিশোধিত শস্য থাকে যা শুধুই ক্যালরি বৃদ্ধি ছাড়া আর কোনো উপকারে আসে না।

৪. কফি ভয় করবেন না তথা কফিকে না বলবেন না!

কফি নিঃসন্দেহে স্বাস্থ্যকর।

এটিতে উচ্চমাত্রায় এন্টিঅক্সিডেন্টস (antioxidants) থাকে। কিছু গবেষণায় প্রমাণ মিলেছে যে, কফি দীর্ঘায়ু লাভে সহায়ক এবং কফি টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়। পার্কিনসন্স ডিজিজ ও এ্যালযাইমার্স’ ডিজিজ (Parkinson’s and Alzheimer’s diseases) এবং আরো বহু রোগের হাত থেকে রক্ষায় কফির ভূমিকা উল্লেখ্যযোগ্য।

৫. চর্বিযুক্ত মাছ খান

মানসম্মত প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর চর্বির যোগানে মাছ একটি স্বীকৃত উৎস। স্যামন মাছের (দেশী রুই) মত চর্বিযুক্ত মাছগুলোর ক্ষেত্রে কথাটি পুরোপুরি সত্য। এ ধরণের মাছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড (omega-3 fatty acid) ও আরো বিভিন্ন পুষ্টিগুণ রয়েছে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, যারা বেশি বেশি মাছ খানে তাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি ততই কম মাত্রায় থাকে। হৃদরোগ, স্মৃতিভ্রম এবং দুশ্চিন্তা থেকে তারাও অপেক্ষাকৃত কম আক্রান্ত হন।


৬. পর্যাপ্ত ঘুম প্রয়োজন

পর্যাপ্ত ঘুমের গুরুত্ব না বললেই নয়। অপর্যাপ্ত ঘুমের ফলে শরীর ইনসুলিন প্রতিরোধী হয়ে পড়ে। এছাড়াও, কম ঘুম পরিপাকে সহায়ক হরমোনের তারতম্য এবং দৈহিক ও মানসিক কার্যকারিতাও হ্রাস পায়। সন্তোষজনক ঘুম না হলে সবচেয়ে বড় যে ক্ষতির সম্মুখীন হবার সম্ভাবনা থাকে, তা হলো: মেদ বৃদ্ধি। একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে অপর্যাপ্ত ঘুম শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের মাঝে মেদবাহুল্যের বৃদ্ধি ঘটিয়েছে যথাক্রমে ৮৯% ও ৫৫% হারে।

৭. পাকস্থলির যত্ন নিন প্রোবায়োটিক্স ও ফাইবার (probiotics and fiber) দিয়ে

পাকস্থলিতে থাকা ব্যাকটেরিয়াকে সামষ্টিকভাবে গাট মাইক্রোবায়োটা (gut microbiota) বলে। যা সামগ্রিক সুস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই গাট ব্যাকটেরিয়ার তারতম্য ঘটলে মেদবাহুল্যসহ জটিল সব রোগে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি থাকে। পাকস্থলির যত্নে এইজন্য চাই দই (yogurt) ও সাওয়ারক্রাটের (sauerkraut) মত প্রোবায়োটিক খাদ্যের। এছাড়াও চাই প্রচুর পরিমাণে ফাইবারসমৃদ্ধ খাদ্যে। ফাইবার পাকস্থলির ব্যাকটেরিয়াকে কর্মক্ষম করতে প্রয়োজনীয় জ্বালানীর যোগান দেয়।

৮. খাবার পূর্বে অল্প পরিমাণে পানি পানের অভ্যাস করুন

পর্যাপ্ত পানি পানের অসংখ্য উপকারিতা রয়েছে। বিস্ময়করভাবে, এটি ক্যালরি বার্নিংর মাত্রাও বৃদ্ধি করে। দুই ভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, এই অভ্যাসে এক থেকে দেড় ঘন্টায় মেটাবলিযমের শতকরা হার বৃদ্ধি পেয়েছে ২৪ থেকে ৩০ শতাংশ। আপনি যদি ৮.৪ কাপ বা দুই লিটার পরিমাণ পানি পান করেন তবে, এটি প্রায় ৯৬ ক্যালরি হ্রাসে ভূমিকা রাখবে।

খাবার আগের সময়ই পানি পানের মোক্ষম সময়। একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে, ২.১ কাপ বা ৫০০মি.লি. পানি প্রতিবার খাবার গ্রহণের ৩০মিনিট পূর্বে পান করার ফলে শতকরা ৪৪ শতাংশ ওজন হ্রাস পেয়েছে।

৯. মাংস বেশি রান্না বা পুড়িয়ে ফেলা থেকে বিরত থাকুন

মাংস খাদ্যতালিকায় পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর একটি অংশ হতে পারে। এতে উচ্চমাত্রায় প্রোটিন ও পুষ্টিগুণ (nutrients) রয়েছে। তবে, সমস্যা হয় যখন মাংস বেশি রান্না হয়ে যায় বা পুড়ে যায়। এর ফলে মাংসের মধ্য ক্ষতিকারক উপাদান তৈরি হয় যা, ক্যান্সারের কারণ হতে পারে। তাই, মাংস রান্নার ক্ষেত্রে সতর্কদৃষ্টি রাখা প্রয়োজন।

১০. ঘুমের পূর্বে তীব্র আলো পরিহার করুন

সন্ধ্যা থেকে তীব্র আলোয় থাকলে ঘুমে সহায়ক হরমোন মেলাটোনিন (melatonin) উৎপন্ন হবার প্রক্রিয়ায় জটিলতা সৃষ্টি হয়। এ জন্য, একটি কৌশল অবলম্বন করা যেতে পারে; আলোর উৎসের সামনে লাল রঙের কাঁচের শেড ব্যবহার করে চোখে নীল আলো প্রবেশ প্রতিহত করা। এতে করে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া মেলাটোনিন হরমোন উৎপাদন হতে থাকবে। ফলে আপনিও অপেক্ষাকৃতভাবে ভালো ঘুম পাবেন।

১১. পর্যাপ্ত সূর্যের আলো না পেলে ভিটামিন ডি-৩ গ্রহণ করুন

সূর্যালোক ভিটামিন-ডি (vitamin-D) এর দারুণ একটি উৎস। যদিও, যুক্তরাষ্ট্রের ৪১.৬% মানুষ এই প্রয়োজনীয় ভিটামিনের অভাবে ভোগে। তাই, পর্যাপ্ত সূর্যালোক না পেলে, সাপ্লিমেন্ট হিসেবে ভিটামিন ডি একটি ভালো বিকল্প। হাড় ভালো রাখতে, শক্তিবর্ধক হিসেবে, দুশ্চিন্তা লক্ষণসমূহ হ্রাসে, ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে এবং দীর্ঘায়ুর সহায়ক হিসেবে ভিটামিন ডি’র ভূমিকা উল্লেখ্য।


১২. ফলমূল ও শাকসব্জি খান

ফলমূল ও শাকসব্জি প্রিবায়োটিক ফাইবার (prebiotic fibre), ভিটামিন (vitamins), খনিজ পদার্থ (minerals) এবং প্রচুর এন্টিঅক্সিডেন্টে (antioxidants) ভরপুর। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যারা বেশি বেশি ফলমূল ও শাকসব্জি খেয়ে থাকেন তাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, মেদবাহুল্য এবং অন্যান্য রোগের আশংঙ্কা তুলনামূলকভাবে কম থাকে।

১৩. পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণ নিশ্চিত করুন

সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণের জন্য চাই পর্যাপ্ত প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ। এই পুষ্টি উপাদানটি আরো প্রয়োজন পড়ে ওজন হ্রাসের জন্য। হাই প্রোটিন যেমন পরিপাকতন্ত্রকে ব্যস্ত রাখে তেমনি কম ক্যালরি গ্রহণ করেও ভরপেট থাকার সুযোগ করে দেয়। এর জন্য মাঝরাতে হাল্কা নাস্তা করার জন্যও ইচ্ছেতে ভাটা পড়ে।

পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণের ফলে ব্লাডসুগার এবং ব্লাডপ্রেসারের মাত্রাও হ্রাস পায়।

১৪. কার্ডিও এক্সার্সাইজ (cardio excercise)

শারীরিক ও মানসিক সুস্বাস্থ্যের জন্য এ্যারোবিক এক্সার্সাইজ বা কার্ডিও একটি কার্যকরী অভ্যাস। বিশেষত পেটের মেদ কমাতে এটি বেশ উপকারি। পাকস্থলীর চারপাশে যে মেদ জমে ওঠে, তা ঝরাতে পারলে পরিপাকক্রিয়াতেও উন্নতি হয়।

১৫. ধুমপান ও মাদক সেবন করবেন না

ধুমপান ও মাদক সেবনের বদভ্যাস প্রথমে সামাল দিন। এরপর খাদ্যাভ্যাস আর শরীর চর্চা কথা ভাবুন। এ্যালকোহল গ্রহনের মাত্রাতিরিক্ত অভ্যাস থাকলে পুরোপুরি বর্জন করুন।

১৬. এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল (extra virgin olive oil)

ভেজিটেবল অয়েলের মধ্যে এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যকর। হৃদপেশি সুস্থ রাখতে এই তেলের মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট ও শক্তিশালী এ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রদাহজনিত ব্যাথার থেকে আপনাকে মুক্ত রাখতে সহায়তা করবে। যারা এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল খেয়ে থাকেন তাদের হৃদরোগ ও স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম।

১৭. চিনির পরিমাণ হ্রাস করুন (sugar intake)

বাড়তি চিনি আধুনিক খাদ্যাভ্যাসে সবচেয়ে বাজে উপকরণের মধ্য অন্যতম। উচ্চমাত্রায় চিনি খাবার সাথে মেদবাহুল্য, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং বিভিন্ন প্রকারের ক্যান্সারের যোগসূত্র রয়েছে।

১৮. রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেড বেশি খাবেন না

সব কার্বোহাইড্রেড একভাবে তৈরি নয়। রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেড (refined carbohydrates) প্রক্রিয়াজাত করার সময় এর ফাইবার ছাঁটাই করা করা হয়। এতে, তুলনামূলকভাবে কম পুষ্টিগুণ থাকে। যা বেশি পরিমাণে খেলে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে।

গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেড অতিভোজনকে উৎসাহিত করে। আর এটি পরিপাকক্রিয়ার বিভিন্ন ব্যাধির জন্যও দায়ী।

১৯. স্যাচুরেটেড ফ্যাটকে (saturated fat) ভয় পাবেন না

স্যাচুরেটেড ফ্যাট বিষয়টি বেশ বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। আদতেই, এটি কোলেস্টরেলের মাত্রা বৃদ্ধি করে। এটি এইচডিএল বা ভালো কোলেস্টরেলের মাত্রা বাড়ায় আর এলডিএল বা খারাপ কোলেস্টরেলের মাত্রা হ্রাস করে। যার ফলে হৃদরোগের ঝুঁকিও কমে। লক্ষাধিক মানুষ নতুন কিছু পর্যবেক্ষণে স্যাচুরেটেড ফ্যাট গ্রহণের সাথে হৃদরোগের সম্পর্কের ব্যাপারে প্রশ্ন তুলেছেন।

২০. ভারী জিনিসপত্র তুলুন

ভারী জিনিসপত্র তোলার অভ্যাস পেশি শক্তি বৃ্দ্ধি এবং শারীরিক গঠণ উন্নত করতে বেশ উপকারি। এরফলে ইনসুলিন সেন্সিটিভি বাড়ে আর পরিপাকক্রিয়াও ভালো থাকে। এমনিতে ভার তোলার ব্যায়াম করা যেতে পারে। তবে, শরীর ওজন কাজে লাগিয়ে যে ব্যায়ামগুলো রয়েছে সেগুলোও সমানভাবে কার্যকরি।


২১. কৃত্রিম ট্র্যান্স ফ্যাট এড়িয়ে চলুন (artificial trans fats)

এই মানবসৃষ্ট ফ্যাট ভীষণ ক্ষতিকারক। যা, হৃদরোগ ও প্রদাহজনিত জটিলতার সৃষ্টি করে। যদিও, এটি যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রায় দেশেই এটি নিষিদ্ধ ঘোষিত। তবুও, নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি কার্যকর করা যায়নি। এখনও কিছু খাদ্য এই কৃত্রিম চর্বির ব্যবহার হচ্ছে।

২২. গুল্ম ও মশলা (herbs and spices)

বিভিন্ন প্রকারের স্বাস্থ্যকর গুল্ম ও মশলার অস্তিত্ব রয়েছে। আদা আর হলুদ উভয়েই এন্টিইনফ্লেমেটরি আর এন্টিঅক্সিডেন্টের কাজ করে। যা, স্বাস্থ্যের জন্য উপকারি। তাই, খাদ্যতালিকা ভেষজগুনসম্পন্ন এমন মশলাকে সংযুক্ত করুন আর সুস্থ থাকার চেষ্টায় আরো এক ধাপ এগিয়ে যান।

২৩. সম্পর্কের প্রতি যত্নশীল হন (relationships)

সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখা কেবল মাত্র মানসিক সুস্বাস্থ্যের জন্য্‌ই জরুরি; তা নয়। এটি শারীরিক সুস্থতার জন্যও সমানভাবে ভূমিকা রাখে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যারা পরিবার ও বন্ধুদের সাথে ঘনিষ্ঠ, তারা তুলনামূলকভাবে সুস্থ থাকে আর বেশি দিন বেঁচেও থাকে।

২৪. প্রায়শই নিজের খাদ্য তালিকার প্রতি দৃষ্টি রাখুন

কী পরিমাণ ক্যালরি গ্রহণ করছেন তা জানার একমাত্র উপায় খাবারের পরিমাণ যাচাই করা এবং একটি নিউট্রিশন ট্র্যাকার ব্যবহার করা। এছাড়াও, আপনি যথেষ্ট পরিমাণ প্রোটিন, ফাইবার ও মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস পাচ্ছেন কিনা তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যারা খাদ্যতালিকার হিসেব রাখেন তারা ওজন কমাতে এবং নিয়মমাফিক খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখতে অধিক সফল।

২৫. পেটে বাড়তি মেদ জমতে দেবেন না (excess belly fat)

পেটে বাড়তি মেদ বিশেষভাবে ক্ষতিকর। এই মেদ বিভিন্ন পেটে অন্ত্রকে ঘিরে জমতে থাকে আর পরিপাকক্রিয়ার বিভিন্ন রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এজন্য, আপনার কোমড়ের মাপ আপনার ওজনের চেয়ে সুস্বাস্থ্যের নির্দেশক হিসেবে অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

কার্বোহাইড্রেড গ্রহণের মাত্রা হ্রাস করে বেশি বেশি প্রোটিন আর ফাইবার গ্রহণ পেটের মেদ কমাতে দারুন সহায়ক।

২৬. ডায়েট (diet) করতে যাবেন না!

ডায়েট আদতে অকার্যকরি আর দীর্ঘমেয়াদে খুব একটা আশানুরূপ ফলদায়ী নয়। (!) বরঞ্চ, কঠোর ডায়েটে থাকলে ভবিষ্যৎে সেটিই আবার ওজন বাড়ানোর কারন হয়ে পড়ে। তাই, ডায়েট না করে স্বাস্থ্যকর লাইফস্টাইলকে অগ্রাধিকার দিন।

আপনার শরীরকে পুষ্টি থেকে বঞ্চিত না করে এতে প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করুন। কাঙ্ক্ষিত ওজন হ্রাস পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত হয়েও অর্জন করা যায়।

২৭. ডিম খান (eggs)

ডিমের সম্পূর্ণ অংশই পুষ্টিসমৃদ্ধ। যার জন্য একে প্রকৃতির মাল্টিভিটামিনও বলা হয়ে থাকে। কিছু রটনা আছে যে ডিম স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কারণ এতে কোলেস্টরেলসমৃদ্ধ উপাদান রয়েছে। তবে, গবেষণায় জানা গিয়েছে যে, তা ব্লাড কোলেস্টরেলের ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না।

এছাড়াও, একটি পরিসংখ্যানে ২,৬৩,৯৩৮ জন মানুষ তাদের প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন যে ডিম খাওয়ার সাথে হৃদরোগের কোনো যোগসূত্র তারা খুঁজে পাননি। বরং, ডিম বিশ্বের অন্যতম পুষ্টিকর খাবার। বিশেষত, ডিমের কুসুমে প্রয়োজনীয় সকল স্বাস্থ্যকর উপাদানের উপস্থিতি রয়েছে।

শেষোক্ত, কিছু সহজ পদক্ষেপ আপনার খাদ্যাভ্যাস আর সুস্বাস্থ্যের জন্য হতে পারে আশীর্বাদসরূপ। আপনি যদি আরো স্বাস্থ্যকর জীবনের আশা করেন তবে, আপনি কী খাচ্ছেন, তার ওপর সজাগ দৃষ্টি রাখলেই চলবে না! চাই পরিমিত ঘুম, শরীরচর্চা আর সুসম্পর্ক বজায় রাখা।

Wednesday, February 5, 2020

প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস গরম পানি পানের উপকারিতা!

পানি পানের প্রয়োজনীয়তা আর উপকারিতার কথা তো সবাই-ই জানে। দৈনিক অন্তত আট গ্লাস পানি পান করাটাকে চিকিৎসকেরা আমাদের শরীরের সুস্থতার জন্যে অত্যন্ত দরকারী বলে মনে করে থাকেন। তবে কম-বেশি আট গ্লাস পানি পান করলেও অনেক সময়, বিশেষ করে গরমকালে, খানিকটা গরম পানি পান করাটাকে খুব সচেতনভাবেই এড়িয়ে চলে সবাই। এর বদলে বেছে নেয় বরফ কুচি মেশানো ঠান্ডা শীতল পানিকে। কিন্তু আপনি কি জানেন যে, খানিকটা কষ্টকর হলেও এই গরমে এক গ্লাস গরম পানি আপনার শরীরকে দিতে পারে অনেকটুকু সুফল? চলুন জেনে আসি গরম পানি পানের চমৎকার এই ইতিবাচক দিকগুলো।
সর্দি-কাশি
সর্দি-কাশি হলে শ্বাসনালিতে সর্দি জমে যায়। সেই জমে থাকা সর্দি বের করতে গরম পানি অব্যর্থ। গরম পানি খেলে নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার সমস্যা থেকে মুক্তি মেলে।
শরীরের বিষাক্ততাকে দূর করে

আমাদের শরীরে প্রতিদিন মৃত কোষের পরিমাণ বাড়ে, শরীরের ভেতরে নানারকম বিষাক্ত পদার্থ জমা হয়। আর এসবকে ঝেটিয়ে বিদায় করতে এক গ্লাস গরম পানি অপ্রত্যাশিতভাবে সাহায্য করবে আপনাকে। গরম পানি পান করলে আপনার শরীর গরম হবে ও তাতে ঘামের জন্ম হবে। আর এই ঘামের মাধ্যমেই নিজের যত বিষাক্ত পদার্থ সেটা বাইরে বের করে দেবে শরীর। এভাবে সহজেই আপনি আপনার শরীরকে রাখতে পারবেন অনেকটা জীবাণুমুক্ত।

ত্বকের সুস্থতা নিশ্চিত করে

গরম পানি পান যেহেতু শরীরের সব কোষ থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে সাহায্য করে, ফলে সহজেই এর মাধ্যমে আপনি মুক্তি পেতে পারেন প্রচন্ড ঝামেলাময় ও বিরক্তিকর পিম্পলের হাত থেকে। এছাড়াও গরম পানি ত্বকের নষ্ট হয়ে যাওয়া লাবণ্যকেও ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। তাই এক গ্লাস গরম পানি পান করলে আপনার ত্বক থেকে থেকে খুব সহজেই বয়সের ছাপকে দূরে রাখতে পারবেন আপনি। গরম পানি ত্বককে আর্দ্র রাখে। নিয়মিত গরম পানি খেলে শরীরে বলিরেখা পড়া বা ব্রণের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

হজমে সহায়ক:

হজমের জন্য গরম পানি বেশ কার্যকরী। এ সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসক বলেন, খালি পেটে গরম পানি খেলে এটা হজম প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। এছাড়া এটা ফ্যাট কমাতেও সহায়তা করে।

ওজন কমায়:

প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস গরম পানি সরাসরি আপনার ওজন কমাবে না। তবে ওজন কমানোর প্রক্রিয়াটি সহজ করবে। এটি খুব সহজেই আপনার শরীরের জমানো চর্বিকে গলতে সাহায্য করবে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রতিদিন সকালে গরম পানির সাথে লেবু মিশিয়ে খেলে আপনার আরও বেশি ক্যালরি খরচ হবে। ফলে ওজন কমবে।

প্রাকৃতিক ব্যথানাশক:

গরম পানি প্রাকৃতিক ব্যথানাশক হিসেবে কাজ করে। এটা খেলে টিস্যুতে রক্ত সরবরাহ বেড়ে যায়। যা মাংসপেশীতে প্রশান্তি এনে দেয়। সব ধরনের ব্যথা নিরাময়ে গরম পানি কার্যকর ভূমিকা রাখে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক পেট্রে। এছাড়া দ্রুত ঘুমাতেও সহায়তা করে গরম পানি।

দাঁতের জন্য সহায়ক:

ঠান্ডা পানির চেয়ে গরম পানি আপনার দাঁতের জন্য অনেক বেশি সহায়ক। লক্ষ্য করে দেখবেন, ঠাণ্ডা পানি খেলে দাঁত শিরিশির করে যা গরম পানি খেলে হয় না। এজন্য দাঁতের সুস্থতায় গরম পানি পান করুন। তবে অতিরিক্ত গরম পানি খাবেন না। এতে দাঁত নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

ঠান্ডা ও ব্যথার উপশমে কাজ করে

সর্দি লেগেছে কিংবা মাথাব্যথা? ঠান্ডাজনিত যেকোন সমস্যায় এক গ্লাস গরম পানি আপনাকে দিতে পারে অসম্ভব ভালো ফলাফল। কেবল তাই নয়, নানারকম পেটের ব্যথায়, বিশেষ করে নিছের অংশের পেশীকে সহজ করে দিয়ে নারীদের পিরিয়ডের প্রচন্ড ব্যথাকে সহনীয় পর্যায়ে আনতে সাহায্য করে ইষদুষ্ণ এক গ্লাস পানি।

চুল ও মাথার ত্বককে সুস্থ রাখে

গরম পানি পান চুলের কোষগুলোকে তাজা রাখে, চুলের গোড়াকে অনেক বেশি শক্তিশালী করে তুলে চুলকে কোমল ও পরিমাণে অনেকটা বেশি হয়ে উঠতে সাহায্য করে। এছাড়াও এর মাধ্যমে চুলের বৃদ্ধিকেও ত্বরান্বিত করতে পারে যে কেউ সহজেই। শুধু কি তাই? দিনে এক গ্লাস গরম পানি পান আপনার মাথার ত্বককেও খুশকিমুক্ত করে দিতে পারে পুরোপুরিভাবে। চুল পড়ার সমস্যায় ভুগছেন? তাহলে গরম পানি খান। এতে চুলের গোড়া শক্ত হয়। চুলের ডগা ফাটে না। চুল ঝকঝকে এবং স্বাস্থ্যজ্জ্বল থাকে।


এই কয়েকটি উপকারিতা শুনেই যারা ভাবছেন, বাহ! বেশ কাজের তো দিনে এক গ্লাস গরম পানি পান করা। তাদেরকে জানাচ্ছি, এটুকুই শেষ নয়। খাবার হজম করা, কোষ্ঠকাঠিন্য রোধসহ এমন আরো অনেক অনেকভাবে আমাদেরকে দৈনন্দিন জীবনে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে এক গ্লাস গরম পানি। তাই আর দেরী কেন? আজ থেকেই শুরু করে দিন এক গ্লাস গরম পানি পান করার প্রক্রিয়া! প্রতিদিন খাওয়ার পরে গরম পানি খেলে গ্যাস, অম্বলের মতো সমস্যাগুলো থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। নিয়মিত গরম পানি পান দেহে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে।

তলপেটের যন্ত্রণায়

ঋতুস্রাবে সময় প্রায় সব নারী তলপেটের যন্ত্রণায় কষ্ট পান। এই সময়ে গরম জল খেলে তলপেটের পেশিগুলো স্বস্তি পায়। যার ফলে যন্ত্রণাও কমে।

হিমোগ্লোবিন কি? হিমোগ্লোবিনের কাজ কি? হিমোগ্লোবিনের অভাবে কী হয়?

হিমোগ্লোবিন শব্দটির সঙ্গে আমরা প্রায় সবাই কম বেশি পরিচিত। এমনকি, এ শব্দটি মাথায় আসলেই আমাদের রক্তের কথা মনে পড়ে। কারণ, আমরা জানি এ শব্দটি রক্তের সঙ্গে সম্পর্কিত। মানুষসহ মেরুদন্ডী ও অমেরুদন্ডী সকল প্রাণীর রক্তেই হিমোগ্লোবিন থাকে যা অক্সিজেন পরিচালনাসহ শরীরের আরও অন্যান্য কার্যাবলী সম্পন্ন করে থাকে।

আসুন আজ হিমোগ্লোবিন সম্পর্কে বিস্তারিত জানি। এটি কি, কিভাবে আমাদের দেহে কাজ করে, এর রেঞ্জ কত, ইত্যাদি সব বিষয়েই সম্যক ধারণা নিয়ে রাখি।

হিমোগ্লোবিন কি?
হিমোগ্লোবিন আমাদের শরীরের একটি প্রয়োজনীয় প্রোটিন, মেডিকেল সায়েন্সের ভাষায় একে মেটালোপ্রোটিনও বলা হয়ে থাকে। এটি আমাদের রক্তের লোহিত কণিকায় থাকে এবং রক্তের মাঝে প্রয়োজনীয় ঘনত্ব বজায় রাখে। হিমোগ্লোবিনের জন্যে রক্ত যেমন ঘন হয়, তেমনি লালও হয়। রক্তের অন্যান্য উপাদান সচরাচর বর্ণহীন হয়ে থাকে, হিমোগ্লোবিনই রক্তকে লাল করে থাকে।

হিমোগ্লোবিন আমাদের দেহে দুই ধরণের প্রোটিন গঠনে ভূমিকা রাখে বলে জানিয়েছে মেডিকেল সায়েন্স। এর একটি হচ্ছে টারশিয়ারী আর অন্যটি হচ্ছে কোয়াটার্নারী। উভয় ধরণের প্রোটিনই শরীরের জন্যে দরকারি। আর এসব প্রোটিনের স্থায়িত্ব প্রদান করার জন্যে হিমোগ্লোবিন রক্তের মাঝে আলফা হেলিক্স নামের এক ধরণের অ্যামিনো অ্যাসিড উৎপন্ন করে থাকে।

হিমোগ্লোবিনের কাজ কি?
আমরা আগেই জেনেছি হিমোগ্লোবিন বর্ণহীন রক্তকে লাল করে থাকে। সেই সাথে রক্তে থাকা নানা রকম উপাদানের পর্যাপ্ততাও নিশ্চিত করে থাকে। তবে হিমোগ্লোবিনের মূল কাজ শরীরে অক্সিজেন পরিবহণ করা। এটি মানুষের শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন পৌঁছে দেয়। রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে গেলে যেসব সমস্যা হয় তার মাঝে প্রধাণতম বিষয়টি হচ্ছে অক্সিজেন স্বল্পতা।

আমরা যখন বাতাস থেকে নিশ্বাসের সঙ্গে অক্সিজেন গ্রহণ করি, তখন এটি প্রথমে আমাদের ফুসফুসে যায়। আর ফুসফুস থেকে এই অক্সিজেন শরীরের প্রতিটি টিস্যুতে, প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে পরিবহণের দায়িত্বটি পালন করে হিমোগ্লোবিন।

আরও পড়ুনঃ   "বোবা ধরা" সম্পর্কে ইসলাম কি বলে এবং এর প্রতিকার
শুধু তাই নয়, এই হিমোগ্লোবিনই অক্সিজেনের সাথে কার্বণ ডাই অক্সাইড বিনিময় করে। অর্থাৎ, ফুসফুস থেকে অক্সিজেন নিয়ে শরীরে পাঠায় আর শরীর থেকে বিষাক্ত কার্বণ ডাই অক্সাইড নিয়ে ফুসফুসে পাঠিয়ে দেয়। অতপর ফুসফুস সেটাকে আমাদের নিশ্বাস ফেলার মাধ্যমে বাইরে পাঠিয়ে দেয়।

সুতরাং, আমরা বুঝতে পারছি যে আমাদের রক্তের অক্সিজেন সরবরাহের সঙ্গে হিমোগ্লোবিনের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই, রক্তে যদি কখনো এই লোহিত অনু ধারণকারী পদার্থটি কমে যায়, তবে শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়। আর তখন আমরা অ্যানিমিয়াসহ নানা রকম শারীরিক সমস্যার সন্মুখীন হই।

রক্তে কোনও দূষিত পদার্থ দেখা দিলে হিমোগ্লোবিন সেটাকে পরিস্কার করে অর্থাৎ রক্তে যে কোন ধরণের ক্ষতিকর পদার্থ মিশ্রণে বাধা প্রদান করে। এমনকি, আমাদের শরীরে যত ধরণের বিষাক্ত গ্যাস জমা হয়, হিমোগ্লোবিন সেগুলোকে শরীরের বাইরে পরিবহণেও সহযোগীতা করে থাকে।

মানুষের দেহের রক্ত কণিকার ৯৬ থেকে ৯৭ ভাগই হয়ে থাকে হিমোগ্লোবিনের প্রোটিন অংশ। আর রক্তের মোট ওজনের (পানিসহ) ৩৫ ভাগই দখল করে থাকে এই হিমোগ্লোবিন। আমাদের শরীরে থাকা প্রতি ১ গ্রাম হিমোগ্লোবিন বাতাস থেকে প্রতিবার ১.৩৬ মিলিলিটার, কখনো কখনো তার চেয়ে কিছুটা বেশি অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারে। যারফলে, শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ, বিশেষ করে রক্তে এর পরিবহণের মাত্রা প্রায় ৭০ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে থাকে।

আমাদের শরীরের ৯৭ ভাগ অক্সিজেন ফুসফুস থেকে হিমোগ্লোবিনের মাধ্যমে শরীরের নানা অংশে সরবরাহ হয়ে থাকে। যে ৩ ভাগ বাকী থাকে, তা রক্তের প্লাজমায় মিশে যায়। হিমোগ্লোবিন রক্তের মধ্যে কমপক্ষে ৩০ থেকে উর্ধ্বে ১০০ বার পর্যন্ত অক্সিজেন মুভ করাতে পারে।

ফুসফুসের যেখানে অক্সিজেনের লেবেল অত্যন্ত বেশি থাকে, হিমোগ্লোবিন খুব সুন্দরভাবে সেখানে অক্সিজেনের মাত্রা ঠিক করে দেয়। অর্থাৎ, যে স্থানে অক্সিজেন বেশি সেখান থেকে বাড়তি অক্সিজেন নিয়ে যেখানে কম সেখানে পৌঁছে দেয়। হিমোগ্লোবিনের প্রতিটি অনুর ৪টি আয়রণ পরমাণু থাকে। আর প্রতিটি আয়রণ পরমাণু একটি করে অক্সিজেন গ্রহণ করে।

আরও পড়ুনঃ   পাতলা দেহের অধিকারী মানেই সুস্থতা নয়
শেষ কথা

হিমোগ্লোবি কি আর এর কাজ সম্পর্কে আমাদের মোটামুটি একটা ভাল ধারণা হয়েছে। এখন আমাদের যে ব্যাপারে অত্যন্ত সচেতন থাকতে হবে, তা হচ্ছে রক্তে যেন হিমোগ্লোবিন কমে না যায়। আর যদিও কোন কারণে কমে যায়, তবে আমাদেরকে নিয়মিত ওইসব খাবার খেতে হবে, যেসব খাবার রক্তে হিমোগ্লোবিন বাড়ায়। রক্তে যাতে যথেষ্ট্য পরিমাণে হিমোগ্লোবিন উৎপন্ন হয়, সে ব্যাপারে সচেষ্ট্য থাকার প্রধাণ উপায়ই হচ্ছে এইসব খাবার খাওয়া।

হিমোগ্লোবিনের অভাবে কী হয়?

আমরা উপরের আলোচনা থেকে যা বুঝলাম, হিমোগ্লোবিন হলো এক ধরনের প্রোটিন। এটি মানুষের শরীরে লোহিত রক্তকণিকার মধ্যে থাকে। এটা আমাদের শরীরে অক্সিজেন পরিবহনে সাহায্য করে। মানুষের শরীরের ভেতর প্রতিটি জায়গায় অক্সিজেন পৌঁছে দেয়ার কাজ হলো হিমোগ্লোবিনের। রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে গেলে অক্সিজেন সরবরাহও কমে যায়।

রক্তশূন্যতা
আমাদের শরীরে রক্তের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান লোহিত রক্তকণিকা, আর লোহিত রক্তকণিকার প্রাণ হচ্ছে হিমোগ্লোবিন। এই হিমোগ্লোবিনের কাজ হলো ফুসফুস থেকে দেহকোষে অক্সিজেন পরিবহন করা। আবার আমাদের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন অক্সিজেন। কোনো কারণে রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বা পরিমাণ কমে গেলে সেই অবস্থাকে অ্যানিমিয়া বা রক্তশূন্যতা বলা হয়।

হিমোগ্লোবিনের স্বাভাবিক মাত্রা
বয়স ও লিঙ্গ অনুসারে হিমোগ্লোবিনের স্বাভাবিক মাত্রা ভিন্ন। সাধারণত জন্মের সময় নবজাতকের দেহে এক লিটার রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ থাকে ২০০ গ্রাম। পরবর্তীকালে তিন মাস বয়স থেকে তা কমতে থাকে এবং প্রায় অর্ধেক হয়ে যায়। পরে প্রাপ্ত বয়সের সময় হিমোগ্লোবিন আবার বাড়তে শুরু করে। পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রতি লিটার রক্তে হিমোগ্লোবিনের স্বাভাবিক মাত্রা ১৩০ থেক ১৮০ গ্রাম। নারীদের ক্ষেত্রে ১১৫ থেকে ১৬৫ গ্রাম। এ ক্ষেত্রে পুরুষ কিংবা নারীর প্রতি লিটার রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমান ৭০ কিংবা ৮০ গ্রাম হলে তাকে রক্তশূন্যতা বলা চলে।

লক্ষণ
বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রেই অ্যানিমিয়ার নির্দিষ্ট লক্ষণ শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। তবে এ ক্ষেত্রে বেশকিছু লক্ষণ প্রায় একই সঙ্গে থাকলে রক্ত পরীক্ষা করা খুবই জরুরি। যেমন-

শরীর ফ্যাকাসে থাকবে ও প্রচুর ঘাম হবে।
বুক ধড়পড় করবে।
নাড়ির স্পন্দন দ্রুত হবে।
মাথা ঘোরার সঙ্গে মাথা ব্যথাও থাকতে পারে।
চোখে ঝাপসা কিংবা কম দেখবে।
মুখের কোণে ও জিহ্বায় ঘা হতে পারে।
দুর্বলতা ও ক্লান্তিভাব। হজমে সমস্যা এবং পুরো শরীর ফুলে যায়।
পা ফুলে যাওয়া সঙ্গে শ্বাসকষ্টও থাকতে পারে।
অনিদ্রা কিংবা ঘুম কম হতে পারে। হৃৎপিন্ড বড় হয়ে যায় এবং দ্রুত হার্টবিট হতে থাকে।
আরও পড়ুনঃ   ক্যান্সার, মাইগ্রেনসহ নানা রোগ প্রতিরোধক সূর্যমুখী তেল
চিকিৎসা
রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে প্রচুর আয়রন, ভিটামিন ও ফলেটযুক্ত খাদ্য ও ওষুধ সেবন করতে হবে। তবে সমস্যা বেশি হলে যথাযথ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

Wednesday, August 14, 2019

কেন হয় বিষণ্ণতা? রইল এর থেকে মুক্তির কিছু সহজ উপায়


বর্তমান যুগে "ডিপ্রেশন" নামক শব্দটার সাথে ছোটো থেকে বড় সবাই কম বেশি পরিচিত। আমাদের চলতি কথাবার্তার মধ্যে মাঝেমাঝেই এই শব্দটা আমরা ব্যবহার করে থাকি। বাংলায় আমরা একে "বিষণ্ণতা" বলে থাকি। সারা বিশ্বেই ডিপ্রেশন এক মারাত্মক ব্যাধি বলে স্বীকৃত। এই বিষণ্ণতা মানুষকে আস্তে আস্তে অক্ষমতার দিকে ঠেলে নিয়ে যায়। ছোটো, বড় প্রত্যেকেই কম বেশি স্ট্রেস, বিষণ্ণতায় ভোগে কোনও না কোনও সময়। ডিপ্রেশন এমন একটি মেন্টাল ডিসঅর্ডার, যার কারণে কোনও মানুষের জীবন ক্ষতবিক্ষত হয়ে যেতে পারে।


বর্তমান সময়ে #ডিপ্রেশন বা বিষণ্ণতা বেশিরভাগই দেখা যায় ছাত্র-ছাত্রী বা টিনএজারদের মধ্যে। বিশেষ করে, বয়ঃসন্ধিকালে যে শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন আসে সেই সময় স্ট্রেস দেখা দেয়। ছেলেমেয়েদের ওপর এইসময় সবথেকে বেশি বিষণ্ণতা ভর করে এবং তারা আবেগবশত কিছু ভুল করে ফেলে। কেউ কেউ আত্মহত্যার পথও বেছে নেয়। আবার, কেউ কেউ ধূমপান, মদ্যপান ও নানারকম খারাপ কাজের সাথে জড়িয়ে পড়ে। যা মারাত্মক আকার ধারণ করে এবং অনেক সময় ছেলে-মেয়েদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দেয়। মাঝেমাঝেই খবরের শিরোনামে উঠে আসে এই ধরনের খবর।


ডিপ্রেশন কী?

বিষণ্ণতা বা ডিপ্রেশন, স্ট্রেস এমনই মারাত্মক ব্যাধি যা মানুষের অনুভূতি, চিন্তা ও কাজ-কর্মের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অনেকসময়, আমরা আমাদের মনখারাপ বা দুঃখবোধ ও বিষণ্ণতাকে এক বলে মনে করি। কিন্তু, এই দুটো এক নয়। দুঃখবোধ হল সাময়িক মনখারাপ যা কিছু সময়ের মধ্যেই ঠিক হয়ে যায়। আর এর জন্য কোনও চিকিৎসার দরকার হয় না। কিন্তু, ডিপ্রেশন হল দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা। যা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।

টিনএজার ছেলে--মেয়েদের বিষণ্ণতার কারণ :

ক) অনেকসময় পড়াশুনায় ব্যর্থ হলে বা কোনও কাজে সফল না হতে পারলে এই বয়সের ছেলে মেয়েরা বিষণ্ণতায় ভোগে।

খ) বন্ধুদের সঙ্গে মনোমালিন্যের কারণেও বিষণ্ণতা দেখা দেয়।

গ) কলেজ মানেই সদ্য স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে এক নতুন রঙিন জগৎ। নতুন বন্ধু-বান্ধব, পাশাপাশি প্রেমের আনাগোনা। সেই প্রেমে ধাক্কা খেয়ে বিষণ্ণতায় ভোগে এই বয়সী ছেলে-মেয়েরা।

ঘ) বড়রা বকা-ঝকা করলে অপমানহীনতায় ভোগে।

ডিপ্রেশনের লক্ষণ :

ক) এক্ষেত্রে ব্যক্তির মন-মেজাজের পরিবর্তন হয়। সবকিছুতেই নেতিবাচক মনোভাব দেখা যায়।

খ) তারা সাধারণত স্বাভাবিক কাজ করতে অক্ষম হয়ে পড়ে, শক্তিহীন, অলস ও নিস্তেজ বোধ করে।

গ) ঘুম হয় না। শরীরে ক্লান্তি অনুভব হয়।

ঘ) রোজকার খাদ্যাভাসে অনীহা দেখা দেয়। নিজের প্রতি খেয়াল রাখার ইচ্ছা থাকে না।

ঙ) যেকোনও কাজে মনোযোগের অভাব দেখা দেয়।

চ) অল্প কিছুতেই কেঁদে ফেলার ইচ্ছা হয়। কোনও কোনও ক্ষেত্রে বাঁচার ইচ্ছে চলে যায়।

ছ) অবসাদের সবথেকে বড়ো উপসর্গ হল, যেটা করতে সবচেয়ে বেশি ভালোলাগে সেটা না করার ইচ্ছা।

বিষণ্ণতা দূর করার উপায় :

শুধুমাত্র টিনএজারই নয়, মধ্যবয়স্ক থেকে বয়স্ক প্রত্যেকেই কখনও না কখনও ডিপ্রেশনে ভুগে থাকেন। বিষণ্ণতা যেমন মানুষের ক্ষতি করে, তেমনই এর থেকে মুক্তির উপায়ও আছে। এই উপায়গুলি মেনে চললে ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

ক) মিউজিক মানুষের মেজাজকে নিমেষের মধ্যে বদলাতে পারে| এটা ওষুধের মতো কাজ করে ডিপ্রেশনের সময়। মিউজিক শুনলে আমাদের মন শান্ত হয়ে যায়। মস্তিষ্ক আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

খ) পর্যাপ্ত সময় ঘুমানো উচিত। সঠিক সময় খাবার খাওয়া উচিত।

গ) বাইরে ঘুরতে যাওয়া ও নিজের জন্য শপিং করতে পারেন।

ঘ) রোজ ডায়রি লেখার অভ্যাস করুন।

ঙ) হাসির সিনেমা বা কমিকস্ পড়লে মন ভালো থাকে।

চ) শিশুদের সঙ্গে সময় কাটান।

ছ) নেতিবাচক চিন্তা থেকে দূরে থাকুন।